1. Raju@rstartv.com : rstartv : rstartv
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
আজ ২৬ নভেম্বর। পঁচাত্তরের এই দিনে জাসদের একটি সুইসাইড স্কোয়াড ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সমর সেনকে অপহরণের চেষ্টা করে। - R STAR TV
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন

আজ ২৬ নভেম্বর। পঁচাত্তরের এই দিনে জাসদের একটি সুইসাইড স্কোয়াড ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সমর সেনকে অপহরণের চেষ্টা করে।

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২২
  • ১৯৬ Time View

আজ ২৬ নভেম্বর। পঁচাত্তরের এই দিনে জাসদের একটি সুইসাইড স্কোয়াড ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সমর সেনকে অপহরণের চেষ্টা করে। ১৫ আগস্ট ট্র্যাজেডির পর সেই অস্থির সময়ে দেশের রাজনীতিতে একের পর এক ঘটতে থাকে অনেক, বেদনাদায়ক, চাঞ্চল্যকর ও নাটকীয় ঘটনা। এসবের একটি ছিল ভারতীয় রাষ্ট্রদূত শ্রী সমর সেনকে অপহরণের প্রচেষ্টা। এ ঘটনার প্রায় ১০ দিন আগে ১৫ নভেম্বর সমর সেনের বাড়ির আঙিনায় একটি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড পাওয়া যায়।

সমর সেন ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রদূত। একাত্তরে আমাদের মুক্তিসংগ্রামের সময় কূটনৈতিক যুদ্ধে এই খ্যাতিমান কূটনীতিক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছিলেন। সেই সময় তিনি ছিলেন জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি। বাংলাদেশবিরোধী মার্কিন কূটনৈতিক চাপ বেশ দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে তিনি সামাল দিয়েছিলেন। সমর সেন বাংলাদেশে নিয়োজিত ছিলেন চুয়াত্তরের জুন থেকে ছিয়াত্তরের নভেম্বর পর্যন্ত। তার ঢাকায় আগমনের বিষয়টি ছিল বেশ ব্যতিক্রমী একটি ঘটনা। বাংলাদেশে তখন ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন স্বনামধন্য কূটনীতিক সুবিমল দত্ত। তিনি ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের প্রথম রাষ্ট্রদূত। জওহর লাল নেহরুর আমলে এই সুবিমল দত্ত ভারতের পররাষ্ট্র সচিব পদে নিয়োজিত ছিলেন। এমন একজন ঝানু কূটনীতিককে সদ্য স্বাধীন একটি দেশে নিযুক্তি প্রমাণ করে যে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি বেশ গুরুত্ব দিচ্ছিল। সুবিমল দত্ত এবং সমর সেন উভয়েই ছিলেন আমাদের এই মাটিরই মানুষ। সমর সেনের জন্ম ঢাকায় আর সুবিমল দত্ত বেড়ে উঠেছেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর কানুনগো পাড়ায়। ১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কিছুটা কূটনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়। এরই প্রেক্ষিতে সুবিমল দত্ত পদত্যাগ করেন। এই পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশে থেকে তিনি ভুট্টোকে ঢাকা বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত নন এবং ভুট্টোর সঙ্গে করমর্দন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকায় ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে আসেন সমর সেন।
সমর সেন অপহরণ প্রচেষ্টার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন কর্নেল তাহেরের ভাই, ঢাকা নগর গণবাহিনীর কমান্ডার আনোয়ার হোসেন। এই অপারেশন সম্পন্ন করতে আনোয়ার হোসেন ছয় সদস্যের একটি সুইসাইড স্কোয়াড গঠন করেন। এই স্কোয়াডের নেতা ছিল সাখাওয়াত হোসেন বাহার। অন্য পাঁচজনের মধ্যে ছিল ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল, মীর নজরুল ইসলাম বাচ্চু, মাসুদুর রহমান, হারুন অর রশীদ এবং সৈয়দ বাহারুল হাসান সবুজ। এদের মধ্যে বাহার ও বেলাল ছিল কর্নেল তাহের এবং আনোয়ার হোসেনের ভাই।

ধানমন্ডি দুই নম্বর সড়কে এখন যেখানে ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার, ঠিক সেখানেই একসময় ছিল ভারতীয় দূতাবাস। সুইসাইড স্কোয়াডের তিনজন অবস্থান নেয় রাস্তার দক্ষিণ পাশে জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কাছে, আর অন্য তিনজন অপেক্ষা করতে থাকে ভারতীয় ভিসা অফিসের সামনে। মগবাজারের নয়াটোলার আস্তানা থেকে তারা ভোরবেলা বের হয় অপারেশনের উদ্দেশ্যে। তারা খোঁজ নিয়ে জেনেছিল প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সমর সেন অফিসে আসেন। সেদিন সকাল ৯টা বেজে ৪০ মিনিটে সমর সেনের গাড়ি এসে দাঁড়ায় দূতাবাসের চৌকাঠে। তিনি গাড়ি থেকে নামতেই গণবাহিনীর সেই ছয় তরুণের সুইসাইড স্কোয়াড তাকে জিম্মি করে।

তারা তাকে বলে, ‘আপনি এখন আমাদের হাতে জিম্মি। আপনার ঘরে চলুন, আপনার সঙ্গে আমাদের কথা আছে।’ স্বাভাবিকভাবেই সমর সেন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যান। নিজের দূতাবাসের দরজার সামনে এভাবে তাকে অপহরণ করা হবে, এটা হয়তো তিনি ভাবতেও পারেননি। অপহরণ প্রচেষ্টার আগে যারা রেকি করেছিল, তারা খেয়াল করেনি ভবনের দোতলায় নিরাপত্তারক্ষীদের একটি দল সর্বদা পাহারায় থাকে। ফলে যখন তারা সমর সেনকে সিঁড়ি দিয়ে একতলা থেকে দোতলায় নিতে উদ্যত হয়, তখন ওপর থেকে শুরু হয় ব্রাশফায়ার। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সবাই। অপহরণকারীদের মধ্যে বাহার, বাচ্চু, মাসুদ ও হারুন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। বেলাল ও সবুজ আহত অবস্থায় কাতরাতে থাকে। সমর সেনের কাঁধে গুলি লাগে, তবে তার আঘাত ততটা মারাত্মক ছিল না। খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে আসেন সেনাবাহিনীর নবনিযুক্ত চিফ অব জেনারেল স্টাফ ব্রিগেডিয়ার আবুল মঞ্জুর। তিনি আহত বেলাল ও সবুজকে তার গাড়িতে উঠিয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যান। বাহার, বাচ্চু, মাসুদ ও হারুনের মৃতদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ভারতীয় দূতাবাসের পেছনে ৩ নম্বর সড়কে থানার পোর্টিকোর নিচে একটি ভ্যানে মৃতদেহগুলো রাখা হয়।
চার অপহরণকারীকে হত্যা ও দুজনকে জীবিত অবস্থায় গ্রেফতারের জন্য পুলিশের পাঁচজন সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়। আইজিপি তাদের প্রত্যেককে দুই হাজার টাকার পুরস্কার তুলে দেন। অন্যদিকে পুলিশ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও খুঁজতে শুরু করে। গ্রেফতার এড়াতে জাসদের অনেকেই গা ঢাকা দেয়। তবু একে একে গ্রেফতার হন আ ফ ম মাহবুবুল হক, মাহমুদুর রহমান মান্না এবং বিপ্লবী সৈনিক সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা। এই আ ফ ম মাহবুবুল হক কয়েক বছর আগে কানাডায় মারা যান। আর মাহমুদুর রহমান মান্না জাসদ, বাসদ এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতি শেষে এখন খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। সে এখন নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা।

ভারতীয় হাইকমিশনে অভিযান চালানোর কয়েক দিন আগে অপহরণকারী দলের সদস্যরা রায়েরবাজারের জনৈক জয়নুল হক শিকদারের কাছ থেকে দুটি পিস্তল ছিনিয়ে নেয়। ওই সময় তারা সেনাবাহিনীর একটি জিপ নিয়ে গিয়েছিল। পিস্তল দুটি লাইসেন্স করা ছিল। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অন্য অস্ত্রের সঙ্গে এই দুটি পিস্তলও উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত পিস্তলের সূত্র ধরে পুলিশ এর মালিকের নাম-ঠিকানা জোগাড় করে এবং শিকদারকে গ্রেফতার করে। অস্ত্র হারানোর তথ্য পুলিশকে না জানানোর অভিযোগে সিকদারের জেল হয়। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে জয়নুল হক শিকদার ১৯৮২ সালে আমেরিকায় পাড়ি জমান। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। এখন তিনি ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান। সিকদার নিজের নামে একটি মেডিকেল কলেজও প্রতিষ্ঠা করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি