প্রকৃতিতে এখন হেমন্তকাল। রাতে ও সকালে টুপটাপ করে ঝরছে শিশির। সকালে সূর্যের আলোকচ্ছটায় ঘাসের ওপর ফোঁটা ফোঁটা শিশির এক-একটা মুক্তোদানার মতো দেখাচ্ছে। ঘন কুয়াশার প্রতিটি সকাল বলছে উত্তরে জেঁকে বসেছে শীত। জীবিকার সন্ধানে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষ সাধ্য অনুযায়ী গায়ে জড়িয়ে নিচ্ছেন গরম কাপড়। কারও কারও গরম কাপড় না থাকায় হালকা কাপড় পরে বেরিয়ে পড়ছেন কাজের সন্ধানে।
গত দু’দিন ধরে উত্তরের জেলা নাটোর, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরে জেঁকে বসেছে শীত। দিনে মেঘলুপ্ত সূর্যের খরতাপ আর রাতে পড়ছে হালকা থেকে ঘন কুয়াশা। হঠাৎ চলে আসা এই ঠাণ্ডার সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা হিমশিম খাচ্ছে মানুষ। অনেকে অসুস্থ হতেও শুরু করেছে, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা। দিন দিন তাপমাত্রা আরো কমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে নাটোরের সিংড়ায়। শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ঠাণ্ডা আর ঘন কুয়াশায় আত্রাই নদী ও চলবিলাঞ্চলের মানুষের কষ্ট বেড়েছে নিদারুণ। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। হাঁপানি, অ্যাজমা, নিউমোনিয়া, হৃদরোগসহ শীতজনিত রোগে আক্রাসিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মইনুল হক রিকো বলেন, ঠাণ্ডার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন শিশুসহ অন্তত ২৫ জন। শীতের তীব্রতা বাড়লে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সেলিম রেজা বলেন, দু’দিন ধরে ঘন কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। তবে ফসলের খুব একটা ক্ষতি হবে না, শীত আরও তীব্র হলে ফসল ও শীতকালীন সবজির ক্ষতি হতে পারে।ন্ত হয়ে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।
উপজেলার বেলোয়া গ্রামের সুমন মল্লিক জানান, প্রচুর ঠাণ্ডা পড়ছে। বাচ্চাদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে। ঠাণ্ডার কারণে বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। গত দু’দিন ধরে খুবই শীত পড়ছে। সকাল ৯টাতেও সূর্যের দেখা নেই। বড়গ্রামের কাবিল উদ্দিন জানান, প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশা পড়েছে। দু’দিন ধরে সূর্যের দেখা নাই। শীত বাড়লে শিশু ও বৃদ্ধদের কষ্ট হয়।
Leave a Reply