নওগাঁ:*
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি গোলাম রব্বানী আর স্টার টিভি (সত্যের সন্ধানে )
নওগাঁ জেলার প্রধান প্রধান নদী, খাল-বিল এবং বদলগাছী উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া জলাশয়গুলোতে অবাধে বাড়ছে নিষিদ্ধ ‘চায়না রিং জাল’ ও ‘কারেন্ট জাল’-এর ব্যবহার। ডিমওয়ালা মা মাছ, ছোট পোনা মাছ এবং জলজ উদ্ভিদ একযোগে ধ্বংস করে দিচ্ছে এই প্রাণঘাতী জাল। ফলে জেলার প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য ও দেশীয় মাছের বংশবৃদ্ধি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে *উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর, বদলগাছী* থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—অবৈধ জালের কেনাবেচা ও মৎস্য নিধনে জড়িত কোনো অসাধু ব্যবসায়ী কিংবা প্রান্তিক জেলেকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যেই হোক, তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা।
—
### হুমকির মুখে নওগাঁ ও বদলগাছীর জলাশয়সমূহ
নওগাঁ জেলা ও বদলগাছী উপজেলার যেসব প্রধান নদ-নদী ও বিলে এ জালের উপদ্রব দেখা যাচ্ছে:
* *প্রধান নদ-নদী:* নওগাঁ জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত *ছোট যমুনা*, *আত্রাই*, *তুলসী গঙ্গা*, *শিব নদী* এবং **পুনর্ববা নদী**।
* *বদলগাছী উপজেলার নদী ও খাল:* বদলগাছীর বুক দিয়ে বয়ে যাওয়া *ছোট যমুনা নদী* ও **তুলসী গঙ্গা নদী**সহ সংযুক্ত বিভিন্ন খাল-নালা।
* *বিখ্যাত বিল ও জলাশয়:* ঐতিহ্যবাহী *জাবাই বিল*, *ডাহার বিল*, *শারীর বিল*, *গাহন বিল* এবং উপজেলার বিস্তীর্ণ প্লাবনভূমি।
এসব জলাশয় একসময় দেশীয় প্রজাতির নানা মাছের অভয়াশ্রম ছিল। কিন্তু চায়না জালের ক্ষুদ্র ফাঁসের কারণে ছোট পোনা মাছের পাশাপাশি পানির নিচের শ্যাওলা, পদ্ম, শাপলাসহ বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ নষ্ট হয়ে জলাশয়ের স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হচ্ছে।
—
### মৎস্য অধিদপ্তর বদলগাছীর কঠোর বার্তা
বদলগাছী উপজেলা মৎস্য দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
**উপজেলা মৎস্য দপ্তরের হুঁশিয়ারি:**
“অসাধু জাল ব্যবসায়ী বা যেসব প্রান্তিক অসচেতন জেলে এই ক্ষতিকর জালের ব্যবসার সাথে জড়িত, তাদের কাউকেই কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে হাট-বাজার ও নদীতে হঠাৎ অভিযান চালানো হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।”
—
### অপরাধ ও আইনানুযায়ী শাস্তির বিধান
১৯৫০ সালের *‘মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন’* (সংশোধিত) অনুযায়ী, চায়না রিং ও কারেন্ট জালের ব্যবহার, প্রস্তুত, কেনাবেচা ও মজুত সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।
**আইনি সাজা ও জরিমানা:**
১. **কারাদণ্ড:** আইন অমান্যকারীর বিরুদ্ধে সর্বনিম্ন **১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড**।
২. **অর্থদণ্ড:** অপরাধের ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ **৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা** (অথবা কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড উভয়ই)।
৩. **মালপত্র বাজেয়াপ্ত:** জব্দকৃত জাল তাৎক্ষণিকভাবে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা।
—
### উত্তরণ ও প্রতিকারের উপায়
ছোট যমুনা ও আত্রাই নদীর অববাহিকাসহ নওগাঁর মৎস্য সম্পদ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপসমূহ:
1. *ধারাবাহিক মোবাইল কোর্ট:* বদলগাছী উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে নদ-নদী ও বিলে টহল এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা।
2. *উৎসমুখে অভিযান:* অবৈধ কারেন্ট ও চায়না রিং জাল বিক্রির হাট-বাজার ও গুদামে হানা দিয়ে বিক্রি বন্ধ করা।
3. *সচেতনতা বৃদ্ধি:* স্থানীয় মৎস্যজীবীদের মাঝে এই জালের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে সচেতন করা এবং প্রকৃত জেলেদের সরকারের বিভিন্ন সহায়তার আওতায় আনা।
নওগাঁ ও বদলগাছীর ঐতিহ্যবাহী নদ-নদী এবং বিলের জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে মৎস্য দপ্তরের এই কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল।
—
*প্রতিবেদন:* গোলাম রব্বানী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি | *আর স্টার টিভি — সত্যের সন্ধানে*
Leave a Reply