বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নের মেট্রোরেল আজ বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবুজ পতাকা উড়িয়ে ও ফিতা কেটে উদ্বোধন করবেন। প্রথম যাত্রী হিসেবে টিকিট কেটে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে উঠে আগারগাঁও স্টেশনে এসে নামবেন শেখ হাসিনা। মেট্রোরেলে ছয়টি কোচে বসার আসন ৩১২টি এবং দাঁড়িয়ে যেতে পারবেন এক হাজার ৯৯৬ জন।
মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনের দুই প্রান্তের দুটি কোচকে বলা হয় ট্রেইলর কার, সেখানে থাকবেন চালক। এ দুটি কোচের প্রতিটিতে ৪৮ জন বসে এবং ৩২৬ জনের দাঁড়িয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে। আর মাঝখানের চারটি কোচের প্রতিটিতে ৫৪ জন বসে এবং ৩৩৬ জন দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে পারবেন। সব মিলিয়ে ছয় কোচের একটি ট্রেনে বসে এবং দাঁড়িয়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০৮ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। এর মধ্যে সব মিলিয়ে বসার সুযোগ পাবেন ৩১২ জন।চড়ার পর ট্রেনে আসন ফাঁকা থাকলে সেখানে বসতে পারবেন যাত্রী। তবে বসার ক্ষেত্রে বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলছে মেট্রোরেলের পরিচালনা কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) থেকে যাত্রী পরিবহন শুরু করবে মেট্রোরেল। আপাতত উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলবে মেট্রোরেল। যাত্রীদের স্টেশনে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ৩০টি দ্বিতল বাসের ব্যবস্থা করেছে বিআরটিসি।
যার মধ্যে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত বিআরটিসির ২০টি দ্বিতল বাস চলবে। আর উত্তরার হাউজ বিল্ডিং থেকে ১০টি দ্বিতল বাস চলবে দিয়াবাড়ীর মেট্রোরেলের উত্তরা উত্তর স্টেশন পর্যন্ত।
বিআরটিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নগর পরিবহনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) যে ভাড়ার হার নির্ধারণ করে দিয়েছে, বিআরটিসির বাসে সেই ভাড়াই নেওয়া হবে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানিয়েছে, শুরুতে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলবে মেট্রোরেল। পৌনে ১২ কিলোমিটারের এই পথ পাড়ি দিতে মেট্রোরেলের সময় লাগবে ১০ মিনিট ১০ সেকেন্ড।বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নের মেট্রোরেল বাস্তবে রূপ নিচ্ছে আজ। বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবুজ পতাকা উড়িয়ে ও ফিতা কেটে উদ্বোধন করবেন কাঙ্ক্ষিত এ প্রকল্পের। প্রথম যাত্রী হিসেবে টিকিট কেটে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে উঠে আগারগাঁও স্টেশনে এসে নামবেন শেখ হাসিনা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এরিয়াল ভিডিও প্রদর্শনী ও থিম সং পরিবেশনার আয়োজন থাকবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাপতির বক্তব্য দেবেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
উদ্বোধনের পর স্টপেজ ছাড়াই উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল চলবে। বৃহস্পতিবার থেকে যাত্রীরা ট্রেনে যাতায়াত করতে পারবেন। প্রতিটি ট্রেন প্রথম কয়েক দিনের জন্য প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে ১০ মিনিট যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করবে কারণ নগরবাসী এই নতুন পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত নয়।
প্রাথমিকভাবে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ছয়টি বগি বিশিষ্ট ১০ সেট ট্রেন চলাচল করবে। আপাতত এই রুটে ধীরগতিতে ট্রেন চলবে। এ পর্যায়ে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ট্রেন চলবে, পরে চলাচলের সময় বাড়ানো হবে এবং চাহিদা অনুযায়ী ট্রেনের সংখ্যা বাড়নো হবে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন সিদ্দিক বলেন, মেট্রোরেল বাংলাদেশের মানুষের জন্য প্রথমবারের মতো একটি অভিজ্ঞতা হবে। তাই যাত্রীদের টিকিট ব্যবস্থা এবং পরিষেবা ব্যবহার সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, যাত্রীরা যখন মেট্রোরেলের সঙ্গে পরিচিত হবে তখন আমরা মধ্যবর্তী স্টেশনগুলোতে ট্রিপ, ট্রেন এবং স্টপেজের সংখ্যা বৃদ্ধি করব। সিদ্দিক বলেন, ঢাকা দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম শহর। রাজধানী ঢাকার যাত্রীদের জন্য মেট্রোরেলের সঙ্গে সবচেয়ে আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা পেতে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, মেট্রোরেল জনদুর্ভোগ কমাবে কারণ এটি আরামদায়ক উপায়ে কম সময়ে বেশি যাত্রী পরিবহন করবে।
মেট্রোরেল উদ্বোধনের ফলে শুধু মহানগরীর যানজটই কমবে না, সরকারের সামগ্রিক রাজস্ব আদায়ও বাড়বে। পূর্ণগতিতে ট্রেন চলাচল শুরু হলে প্রতি সাড়ে তিন মিনিট অন্তর একটি ট্রেন চলবে।
প্রতিটি স্টেশনে, যাত্রীদের ওঠা ও নামা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ট্রেনটি অপেক্ষা করবে। প্রতিটি ট্রেন ২,৩০০ জন যাত্রী নিয়ে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে। তবে বাঁকযুক্ত এলাকায় গতি কম হবে।
উত্তরা থেকে মতিঝিল-কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ২১.২৬ কিলোমিটারের পুরো রুটটি ৪০ মিনিটেরও কম সময়ে ভ্রমণ করে মেট্রোরেল প্রতি ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী বহন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত ২০১৭ সালের ১ আগস্ট থেকে বাস্তবায়ন সংস্থা রেল প্রকল্পের জন্য ভায়াডাক্ট ইনস্টল করা শুরু করে। এমএএন সিদ্দিক বলেন, চলতি বছরের এপ্রিলের মধ্যেই তাদের প্রকল্প এলাকার রাস্তাগুলো ছেড়ে দেয়ার কথা ছিল।
উত্তরা ফেজ-৩ এবং পল্লবী, রোকেয়া সরণি, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র কেন্দ্র (টিএসসি), দোয়েল চত্বর এবং জাতীয় প্রেসক্লাব হয়ে মতিঝিলের বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত এ মেট্রোরেল লাইনের দৈর্ঘ্য ২০.১ কিলোমিটার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ২৪ জুন মেট্রোরেল প্রকল্পের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন যা এমআরটি লাইন-৬ নামে পরিচিত। পরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নগরীর আগারগাঁও পয়েন্টে এলিভেটেড ভায়াডাক্টের প্রথম অংশ এবং এমআরটি লাইন-৬ এর নয়টি স্টেশনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।
জাইকা (জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি) মোট ২২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা প্রকল্প সহায়তা প্রদান করেছে।রাজধানী ঢাকা গণপরিবহন ব্যবস্থায় নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে আজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় সবুজ পতাকা উড়িয়ে ও ফিতা কেটে উদ্বোধন করবেন বহুল কাঙ্ক্ষিত এ প্রকল্পের। বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) থেকে যাত্রী পরিবহন শুরু করবে মেট্রোরেল। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল পরিচালনার জন্য প্রয়োজন হবে ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এ বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিজিসিবি) ও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো)।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এরইমধ্যে সব প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার রেলপথে ট্রেন চলাচলে প্রয়োজন হবে ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। আর কমলাপুর পর্যন্ত চালু হলে দরকার হবে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। যা সরাসরি জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ করা হবে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) সূত্রমতে, এমআরটি লাইন-৬ এর আওতায় রাজধানীর উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার পর্যন্ত নির্মাণ হবে মেট্রোর উড়ালপথ। এটা বাস্তবায়ন হচ্ছে তিন ভাগে। প্রথম পর্যায়ে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। এরপর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল তারপর কমলাপুর পর্যন্ত। এরমধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত আজ খুলে দেওয়া হচ্ছে।
ঐতিহাসিক এই প্রকল্পের শুরুটাও হচ্ছে নতুন ইতিহাস তৈরির মাধ্যমে। দেশের প্রথম মেট্রোরেল চলবে নারী চালক মরিয়ম আফিজার হাতেই। ম্যাস ট্রানজিট লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
মেট্রোরেল উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে ডিএমপির পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দেওয়া হয়েছে সাত দফা নির্দেশনা। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মেট্রোরেলের আশপাশে সুউচ্চ ভবনগুলোতে ২৮ ডিসেম্বর সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ছাদে ওঠা যাবে না। বেলকনিতে থাকা যাবে না। ছাদে কোনো কাপড় শুকাতেও দেওয়া যাবে না। ছাদে কেউ অবস্থান করতে পারবেন না। এদিন সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো অফিস, দোকান বা রেস্টুরেন্ট খোলা রাখা যাবে না। এমনকি এসব এলাকায় ২৯ ডিসেম্বরের আগে নতুন কোনো ভাড়াটিয়াও ওঠানো যাবে না।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ স্বপ্নের মেট্রোরেল উদ্বোধন করবেন। এদিন আগারগাঁও থেকে উত্তরার দিয়াবাড়ি পর্যন্ত মেট্রোরেলে ভ্রমণ করবেন তিনি। উদ্বোধনের দিন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় আগারগাঁও থেকে দিয়াবাড়ি পর্যন্ত মেট্রোরেল সংলগ্ন এলাকার ভবনের বাসিন্দাদের জন্য ৭ নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ।
ইতিমধ্যে, ওইসব এলাকার বাসিন্দাদের কাছে পুলিশ এই ৭ নির্দেশনা সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করেছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পল্লবী জোনের সহকারী কমিশনার আব্দুল হালিম সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় এসএসএফের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা এলাকাবাসীকে এসব নির্দেশনা বিতরণ করেছি।
নির্দেশনাগুলো হলো
১. কোনো ভবন, বিল্ডিং বা ফ্ল্যাটে আগামী ২৯ ডিসেম্বরের আগে নতুন কোনো ভাড়াটিয়া উঠতে পারবেন না।
২. কোনো ভবনের কমার্শিয়াল স্পেসে আগামী ২৮ ডিসেম্বর নতুন কোনো অফিস, দোকান, রেস্টুরেন্ট খোলা যাবে না।
৩. ২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেল সংলগ্ন কোনো ভবনের বেলকনিতে, ছাদে কাপড় শুকাতে দেওয়া যাবে না এবং কেউ দাঁড়াতে পারবেন না।
৪. ওইসব এলাকার ভবন, বিল্ডিং বা ফ্ল্যাটে ওইদিন কোনো ছবি বা ফেস্টুন লাগানো যাবে না।
৫. মেট্রোরেল সংলগ্ন কোনো ভবনের কমার্শিয়াল স্পেসে বা আবাসিক হোটেলে ২৮ ডিসেম্বর কেউ অবস্থান করতে পারবে না।
৬. ওই এলাকার কোনো ভবন বা ফ্ল্যাটে যদি কোনো বৈধ অস্ত্র থাকে, তা ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে থানায় জমা দিতে হবে।
৭. মেট্রোরেলের দুই পাশের সব ব্যাংক বা এটিএম বুথ ২৮ ডিসেম্বর সকাল থেকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে।
আগামী ২৮ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে মেট্রোরেল উদ্বোধন করবেন। পরদিন যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে মেট্রোরেল।
Leave a Reply