রাজধানীর আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনে সন্তান প্রসব করেছেন এক নারী। আজ বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) সকাল পৌনে ৯টার দিকে আগারগাঁও স্টেশনের ফার্স্ট এইড সেন্টারে সোনিয়া রানী রায় নামে ওই নারী একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
স্থানীয়, প্রত্যক্ষদর্শী ও মেট্রো স্টেশন সূত্র জানায়, মেট্রোরেলে করে চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছিলেন সন্তানসম্ভবা সোনিয়া। কিন্তু মেট্রোরেলের ভেতরে তার প্রসব বেদনা শুরু হয়। পরে তাকে আগারগাঁও স্টেশনের ভেতরে নেওয়া হয়। সেখানে রোভার স্কাউট ও মেট্রোরেল স্টেশন কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে তিনি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। পরে তাদের অ্যাম্বুলেন্সযোগে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সোনিয়ার স্বামী সুকান্ত সাহা বলেন, আমার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা ছিল। তাকে আজ (বৃহস্পতিবার) হাসপাতলে ভর্তি করার কথা ছিল। কিন্তু পথিমধ্যে মেট্রোরেলে তার প্রসব ব্যথা শুরু হয়। পরে মেট্রোরেল স্টেশন কর্তৃপক্ষ এবং রোভার স্কাউটের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে আমাদের ছেলে হয়েছে। মা-ছেলে দুজনেই সুস্থ আছে। তবুও ডাক্তার দেখানোর জন্য তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সুক্ন্ত সাহা বলেন, সবাই ভীষণ সহযোগিতা করেছেন। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেছেন। আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।মেট্রোরেলেই প্রবসবেদনা, এর পর আগারগাঁও স্টেশনে এসে সন্তান প্রসব করলেন এক নারী। তার নাম সোনিয়া রানী দাশ। উত্তরা থেকে রাজধানীর ধানমন্ডির রেনেসাঁ হাসপাতালে যাচ্ছিলেন তিনি। মেট্রোলেল ভ্রমণের সময়ই ওঠে তার প্রসব ব্যথা। দ্রুত মেসেজ পৌঁছে যায় আগারগাঁও মেট্রো স্টেশনে। সে সময় ওখানে দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ স্কাউটস ভলান্টিয়ারের লিডার ট্রেনার মো. নজরুল ইসলাম।
তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, রোগী উত্তরা থেকে আসছিলেন, যাবেন ধানমন্ডির রেনেসাঁ হাসপাতালে। মেট্রোরেলে তার প্রসব ব্যথা ওঠে। আমাদের জানানো হয়। আমি তখন ফার্স্ট এইড পয়েন্টেই ছিলাম। তাকে আমরা রিসিভ করি সাড়ে ৮টার সময়। আমাদের এখানে অভিজ্ঞ কেউ ছিলেন না, তবে রোগীর সৌভাগ্য যে মেট্রোতে একজন নারী চিকিৎসক ছিলেন। প্রসবের সময় ওই চিকিৎসক এবং গার্লস রোভার আমাদের সহযোগিতা করেছেন। ওই মুহূর্তে কাপড়ও ছিল না। গার্লস রোভারের গলায় যে স্কার্ফ ছিল তা দিয়েই সদ্য ভূমিষ্ঠকে জড়ানো হয়। সকাল ৮টা ৪০-এর দিকে ওই নারী সন্তান জন্ম দেন। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর ওই নারীকে আমরা অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠাই।
গার্লস রোভার সোনিয়া; যার স্কার্ফ দিয়ে সেই শিশুটিকে জড়ানো হয় এবং যিনি সার্বক্ষণিক উপস্থিত ছিলেন- দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা তিনজন ছিলাম। সৌভাগ্যবশত রেলে একজন চিকিৎসক ছিলেন। তিনি, আমি এবং এখানকার একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ওই সময় উপস্থিত ছিলাম। স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে।
সোনিয়া নামে ওই নারীর সন্তান প্রসবের সময় ওখানে উপস্থিত ছিলেন পরিচ্চন্নতাকর্মী মঞ্জুআরা বেগম। থাকেন মিরপুর ২ নম্বরে। ‘মেয়েটা প্রথম মা হলেন’ জানিয়ে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমিই সবকিছু করেছি। নাড়ি কাটা থেকে বাচ্চাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা সবই করেছি। এর পর তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
Leave a Reply