1. Raju@rstartv.com : rstartv : rstartv
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
রাজনীতি Archives - Page 96 of 97 - R STAR TV
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩২ অপরাহ্ন
আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্যদের নাম ঘোষণা | ২ জানুয়ারি, ২০২৩ ০০:১৫ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্যদের নাম ঘোষণা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ২৮ সদস্য পদের মধ্যে ২৭টির নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এসব নাম চূড়ান্ত করা হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গণভবনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা হলেন আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, বিপুল ঘোষ, দীপংকর তালুকদার, আমিনুল আলম মিলন, বেগম আখতার জাহান, ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরী, মেরিনা জামান, পারভীন জামান কল্পনা, অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমি, অধ্যাপক মো. আলী আরাফাত, তারানা হালিম, সানজিদা খানম, হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, আনোয়ার হোসেন, আনিসুর রহমান, শাহাবুদ্দিন ফরাজি, ইকবাল হোসেন অপু, গোলাম রব্বানি চিনু, মারুফা আক্তার পপি, রেমন্ড আরেং, গ্লোরিয়া সরকার ঝর্ণা, সাঈদ খোকন, আজিজুর রহমান ডন, সাখাওয়াত হোসেন শফিক, দীলিপ কুমার চ্যাটার্জি ও তারিক সুজাত। অবশিষ্ট একজনের নাম পরে ঘোষণা করা হবে। facebook sharing buttontwitter sharing buttonlinkedin sharing buttonশেয়ার করুন সর্বশেষ সর্বাধিক সাত দিনের সেরা ১পুঁজিবাজারে অভিনব আত্মসাৎ আয়োজন ০১ ঘন্টা ২১ মিনিট ২পুলিশ পদক পাচ্ছেন ১১৫ জন ০৮ ঘন্টা ০৮ মিনিট ৩আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্যদের নাম ঘোষণা ০৯ ঘন্টা ১২ মিনিট ৪ছয় আসনে ১৪ দলের মনোনয়ন পেলেন যারা ০৯ ঘন্টা ১৯ মিনিট ৫এবার হাতির মৃত্যু গোপন করল সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ! ১০ ঘন্টা ১৬ মিনিট ৬কক্সবাজার হয়ে উঠছে অর্থনৈতিক উন্নয়নের হাব ১০ ঘন্টা ৩০ মিনিট ৭শেখ হাসিনাকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির অভিনন্দন ১১ ঘন্টা ৫১ মিনিট ৮‘সালাউদ্দিন পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন, বাফুফের পদ প্রত্যাখ্যান করেন না কেন?’ ১২ ঘন্টা ০০ মিনিট ৯অপ্রস্তুত বাণিজ্য মেলার প্রথম দিনে যানজট ১২ ঘন্টা ২০ মিনিট ১০‘আপন’ ভেন্যুতে রংপুরের অনুশীলন ১২ ঘন্টা ২৪ মিনিট ১১আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হলেন যারা ১২ ঘন্টা ৩৪ মিনিট ১২১৪ বছর পর কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে লোকাল বাস চালু ১২ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ১৩১৪ দলের আসন ভাগাভাগি ১৩ ঘন্টা ১১ মিনিট ১৪যুদ্ধাপরাধে ফাঁসির আসামির নামে সরকারি বিদ্যালয়: পরিবর্তনে গড়িমসি ১৩ ঘন্টা ১৯ মিনিট ১৫ছেড়ে দেওয়া আসনে মনোনয়ন নিলেন আব্দুস সাত্তার ১৩ ঘন্টা ২৬ মিনিট এই পাতার আরো খবর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্যদের নাম ঘোষণা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্যদের নাম ঘোষণা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হলেন যারা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হলেন যারা ১৪ দলের আসন ভাগাভাগি ১৪ দলের আসন ভাগাভাগি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন ওবায়দুল কাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন ওবায়দুল কাদের নতুন বছরে বিরোধীদল ইতিবাচক ধারায় ফিরবে, আশা কাদেরের নতুন বছরে বিরোধীদল ইতিবাচক ধারায় ফিরবে, আশা কাদেরের আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হলেন যারা নিজস্ব প্রতিবেদক | ১ জানুয়ারি, ২০২৩ ২০:৫৩ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হলেন যারা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৮১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। ২৮টি সদস্য পদের মধ্যে ২৭ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (১ জানুয়ারি) রাতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে দলটির সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভা শেষে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এতথ্য জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। পদপ্রাপ্তরা হলেন, আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, বিপুল ঘোষ, দীপংকর তালুকদার, আমিনুল আলম মিলন, বেগম আখতার জাহান, ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরী, মেরিনা জামান, পারভীন জামান কল্পনা, অ্যাড. সফুরা বেগম রুমি, অধ্যাপক মো. আলী আরাফাত, তারানা হালিম, সানজিদা খানম, হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, আনোয়ার হোসেন, আনিসুর রহমান, শাহাবুদ্দিন ফরাজি, ইকবাল হোসেন অপু, গোলাম রব্বানি চিনু, মারুফা আক্তার পপি, রেমন্ড আরেং, গ্লোরিয়া সরকার ঝর্ণা, সাঈদ খোকন, আজিজুর রহমান ডন, সাখাওয়াত হোসেন শফিক, দীলিপ কুমার চ্যাটার্জি ও তারিক সুজাত। অবশিষ্ট একজনের নাম পরে ঘোষণা করা হবে বলে জানান ওবায়দুল কাদের। 57Sharesfacebook sharing buttontwitter sharing buttonlinkedin sharing buttonশেয়ার করুন ৬ আসনে উপনির্বাচন ১৪ দলের আসন ভাগাভাগি নিজস্ব প্রতিবেদক | ১ জানুয়ারি, ২০২৩ ২০:১৬ ১৪ দলের আসন ভাগাভাগি বিএনপির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগে শূন্য হওয়া পাঁচটি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে আসন ভাগাভাগি করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। এতে আওয়ামী লীগ ৩টিতে, একটি করে আসনে প্রার্থী দেবে ১৪ দলের শরীক ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদ। বাকি একটি আসন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। রোববার (১ জানুয়ারি) আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, বগুড়া-৬ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন রাগেবুল আহসান রিপু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২ আসনে মো. জিয়াউর রহমান এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে আব্দুল ওয়াদুদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ঠাকুরগাঁও-৩ আসন ১৪ দলীয় জোটের ওয়ার্কার্স পার্টি, বগুড়া-৪ আসনে ১৪ দলীয় জোটের আরেক শরিক জাসদকে (ইনু) ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তারা সেখানে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এসব আসনে উপনির্বাচনের জন্য গত ১৮ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীরা ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৮ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করবেন এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ জানুয়ারি। 15Sharesfacebook sharing buttontwitter sharing buttonlinkedin sharing buttonশেয়ার করুন স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন ওবায়দুল কাদের অনলাইন ডেস্ক | ১ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৯:৩০ স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন ওবায়দুল কাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সোমবার (২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তার ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) শেখ ওয়ালিদ ফয়েজ। তিনি জানান, চিকিৎসা শেষে তিনি ৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় দেশে ফিরবেন। ২০১৯ সালের ৩ মার্চ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়েছিল ওবায়দুল কাদেরকে। তাকে দেখতে হাসপাতালে যান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএসএমএমইউর কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী আহসান তখন গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, কাদেরের তিনটি আর্টারি ব্লক হয়ে গেছে। ডায়াবেটিসও অনিয়ন্ত্রিত। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের চিকিৎসায় দেশের বাইরে থেকে আনা হয় চিকিৎসক দল। কাদেরের চিকিৎসা করেন ভারতের নামকরা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দেবী শেঠি। তাতেও শঙ্কামুক্ত হননি তিনি। পরদিন এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে কাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় সিঙ্গাপুরে। সেখানে তার হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার করা হয়। প্রায় আড়াই মাসের দীর্ঘ চিকিৎসার পর ২০১৯ সালের ৬ মে সুস্থ হয়ে দেশে ফেরেন আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই নেতা। ধীরে ধীরে রাজনীতির মাঠে আগের মতোই সক্রিয় হয়ে ওঠেন কাদের। বৈশ্বিক করোনাভাইরাস মহামারির স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে লোকসমাগম এড়িয়ে চললেও গণমাধ্যমে নিয়মিত দল এবং সরকারের হয়ে কথা বলছেন তিনি। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর গুরুত্বপূর্ণ কিছু রাষ্ট্রীয় ও দলীয় কর্মসূচিতেও উপস্থিত থেকেছেন কাদের। 7Sharesfacebook sharing buttontwitter sharing buttonlinkedin sharing buttonশেয়ার করুন নতুন বছরে বিরোধীদল ইতিবাচক ধারায় ফিরবে, আশা কাদেরের নিজস্ব প্রতিবেদক | ১ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৪:১৭ নতুন বছরে বিরোধীদল ইতিবাচক ধারায় ফিরবে, আশা কাদেরের নতুন বছরে দেশবাসীকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, নেতিবাচক রাজনীতিচর্চার অন্ধকার ও ষড়যন্ত্রের পথ ছেড়ে বিরোধীদল ইতিবাচক ধারায় ফিরবে বলে আশা করে আওয়ামী লীগ। রোববার (১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর সেতুভবনে মতবিনিময়কালে এ আশাবাদের কথা জানান তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালুর পর আজ পর্যন্ত ৪০৩ কোটি টাকা টোল আদায় হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটা সুখবর। পরে সেতু ভবনে দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতির পর্যালোচনা করেন সেতুমন্ত্রী। এরপর তিনি সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ে খোঁজখবর নেন। 2Sharesfacebook sharing buttontwitter sharing buttonlinkedin sharing buttonশেয়ার করুন কর্তার প্রশ্রয়ে মহালুটের প্রস্তুতি | ২ জানুয়ারি, ২০২৩ ০০:০০ কর্তার প্রশ্রয়ে মহালুটের প্রস্তুতি পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত আলিফ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে অস্বচ্ছ ও বানোয়াট তথ্যে আর্থিক প্রতিবেদন তৈরির অভিযোগ রয়েছে। কোম্পানিটি যে টার্নওভার দেখিয়েছে তার পক্ষে কোনো সহায়ক নথি নেই। শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান হলেও কোনো রপ্তানি প্রক্রিয়ার সনদ (এক্সপোর্ট প্রসিড সার্টিফিকেট) নেই। ব্যাংকের কাছ থেকে কোনো নগদ সহায়তাও আসেনি। কখনো আমদানির ঋণপত্রও খোলেনি তারা। কোম্পানিটি তাদের উৎপাদন চালু দেখালেও কোনো প্রশাসনিক ব্যয় দেখায়নি। এমন কোম্পানিকেই ঢালাওভাবে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে যাচ্ছেন কমিশনের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা, যার প্রশ্রয়ে এবার ব্যাপক লুটপাটের আয়োজন করেছে আলিফ গ্রুপ। আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের বানানো আর্থিক প্রতিবেদন যাচাইয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) তদন্ত কমিটি গঠন করলেও কোম্পানিটির অসহযোগিতায় তা পূর্ণতা পায়নি। সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি এসইসির নির্দেশনাকেও পাত্তা দেয়নি আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ। তথ্য দিতে অসহযোগিতার দায়ে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ রয়েছে এসইসির তদন্ত কমিটির। কিন্তু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি এনফোর্সমেন্ট বিভাগে না পাঠানোর নির্দেশনা দিয়ে তা ধামাচাপা দেন কমিশনের শীর্ষস্থানীয় ওই ব্যক্তি। উল্টো ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ থাকা আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজকে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ৩০০ কোটি টাকা উত্তোলনের সুযোগ করে দিয়েছে এসইসি। এখন এসইসির ওই কর্মকর্তার প্রশ্রয়ে শেয়ারে রূপান্তরযোগ্য এই বন্ডকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদে কারসাজির পরিকল্পনা করেছে কোম্পানিটি। অস্বাভাবিক মূল্যে বন্ডকে শেয়ারে রূপান্তরের অংশ হিসেবে কারসাজির মাধ্যমে শেয়ার দর অন্তত ছয় গুণ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যাপক লুটপাটের আয়োজন চলছে। অন্যদিকে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের নামে মূলধন বাড়ানোর মাধ্যমে কম দামে শত শত কোটি টাকার শেয়ার হাতিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, যাতে সায় দিতে যাচ্ছে এসইসি। এর আগে দুই দফায় রাইট শেয়ারের মাধ্যমে প্রায় ১৭৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করার সুযোগ করে দেওয়া হয় আলিফ গ্রুপের আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিকে। এরপরও কোম্পানিটির আর্থিক স্বাস্থ্যে কোনো উন্নতি হয়নি। উল্টো আয় কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে রাইট শেয়ারের অর্থ ব্যবহার খতিয়ে দেখতে বিশেষ নিরীক্ষার জন্য নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হলেও কোম্পানিটি কোনো তথ্য না দেওয়ায় তা ভেস্তে যায়। এ ক্ষেত্রে এসইসি একাধিকবার নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানকে সহায়তার নির্দেশনা দিলেও তা আমলে নেয়নি আলিফ গ্রুপ। কমিশনের ওই কর্তার হস্তক্ষেপে নিরীক্ষা কাজও বন্ধ হয়ে যায়। তদন্তে অসহযোগিতা : কয়েক বছর ধরে সঠিক হিসাব বই ছাড়াই নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, যা বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজারকে বিভ্রান্ত করছে। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন মিথ্যায় রূপ নিয়েছে, এমন অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর কমিশন সভায় আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ নিয়ে বিশেষ নিরীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় এসইসি। অবশ্য, ২০২১ সালের ৩ মে বিশেষ নিরীক্ষার পরিবর্তে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় এবং ১৮ মে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী কোম্পানির নিরীক্ষিত প্রতিবেদন, প্রপার্টি প্ল্যান্ট অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট, কাঁচামাল, বিক্রি, অগ্রিম, বকেয়া, পাওনাদার, কোম্পানির পাঁচ বছরের ব্যাংক হিসাব বিবরণী, রপ্তানি ও ভ্যাট রিটার্নের তথ্য এবং স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণও খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় তদন্ত কমিটি। এসব তথ্য চেয়ে কোম্পানিকে চিঠি পাঠায় কমিটি। কিন্তু তদন্ত কমিটিকে কিছু তথ্য দিলেও আর্থিক হিসাব সম্পর্কিত কোনো তথ্যই দেয়নি কোম্পানিটি। এমনকি তদন্ত কমিটি আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ পরিদর্শন করতে চাইলেও কোম্পানিটির অসহযোগিতায় তা সম্ভব হয়নি। এসইসি বাধ্য হয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিলের মেয়াদ বারবার বাড়িয়েছে। জালিয়াতির আর্থিক প্রতিবেদন : আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত পাঁচ হিসাব বছরে কোম্পানিটি নিট টার্নওভার দেখায় ২৮০ কোটি টাকা। এ সময় উৎপাদন ব্যয় দেখানো হয় ২৩৫ কোটি টাকা। এ সময়ে কোম্পানিটি বিক্রয় ও বাজারজাতকরণের ব্যয় দেখায় মাত্র ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। কিন্তু এই পাঁচ বছরে প্রশাসনিক খাতে কোম্পানির কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি। ব্যাংক হিসাব থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে কোনো ব্যয় দেখাতে পারেনি। এসইসির তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ ২০১৭ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত দুই হিসাব বছরের বার্ষিক নিরীক্ষিত প্রতিবেদন ও অনিরীক্ষিত প্রান্তিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যেগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যে তৈরি। সঠিক হিসাব বই, প্রাথমিক রেকর্ড ও বৈধ দলিল ছাড়াই ওইসব প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এমনকি আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবসা আলিফ গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান স্বাধীন গার্মেন্টস প্রাইভেট লিমিটেডের নামে পরিচালিত হতো বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি। এতে করে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের আর্থিক প্রতিবেদনে প্রকৃত চিত্র প্রতিফলিত হয়নি, যা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ১৮ ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। যেহেতু আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের নামে কোনো বিক্রি নেই, তাই ২০২১ সালের ৩০ জুন হিসাব বছরে বিক্রি থেকে ৫৫ কোটি টাকা আয়ের যে অঙ্ক উল্লেখ করা হয়েছে, তা মিথ্যা। এ সময়ে কোম্পানিটি ১৭ কোটি টাকার যে মজুদ পণ্য দেখিয়েছে, তাও মিথ্যা। পাঁচ বছরে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ নিট মুনাফা দেখিয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা, কিন্তু নগদ প্রবাহ মাত্র ৯৩ লাখ টাকা। নগদ প্রবাহ যা দেখানো হয়েছে, তাও মিথ্যা। কারণ কোম্পানির কোনো ব্যাংক হিসাবই নেই। গত চার বছরে কোম্পানিটি কোনো বিনিয়োগও করেনি। এমন আর্থিক চিত্র এটাই নির্দেশ করে যে, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ কার্যত চলমান কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়। শাস্তির সুপারিশ তদন্ত কমিটির : মিথ্যা ও বানোয়াট আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি, তদন্তে অসহযোগিতাসহ বিভিন্ন ধরনের সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে ২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি এসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগে পাঠানোর সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি। কিন্তু কমিশনের প্রভাবশালী ওই ব্যক্তি এনফোর্সমেন্ট বিভাগে পাঠানোর নির্দেশনা দেননি। এরই মধ্যে এসইসির একাধিক নির্বাহী পরিচালকসহ কমিশনের ক্ষমতাধর ব্যক্তিটির সঙ্গে সখ্যের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল অধিগ্রহণের সুযোগ পায় আলিফ গ্রুপ। এই অধিগ্রহণের মাধ্যমেই লুটপাটের নতুন নীলনকশা তৈরি করে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ। এমনকি প্রথা ভেঙে সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের আংশিক উৎপাদনে ফেরার অনুষ্ঠানেও ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে উড়ে গিয়েছিলেন কমিশনের প্রভাবশালী ওই কর্মকর্তা। বন্ডের মাধ্যমে কারসাজির পরিকল্পনা : দীর্ঘমেয়াদে অর্থ লুটপাটের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত বছরের ১০ নভেম্বর ৩০০ কোটি টাকার শেয়ারে রূপান্তরযোগ্য বন্ড ইস্যুর ঘোষণা দেয় আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ। বন্ডের অর্থে সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল অধিগ্রহণ, ওই কোম্পানির ব্যাংক দায় পরিশোধ ও যন্ত্রপাতি কেনার কথা জানায় আলিফ ইন্ডাস্টিজ। কোম্পানিটিকে চলতি বছরের ২৬ মে শেয়ারে রূপান্তরিত বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ৩০০ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দিতে প্রধান ভূমিকা রাখেন প্রভাবশালী ওই কর্মকর্তা। ছয় বছর মেয়াদি বন্ডটি তৃতীয় বছর থেকে প্রতি বছর ২৫ শতাংশ করে শেয়ারে রূপান্তর হবে। শেয়ার কারসাজির পরিকল্পনায় বন্ডধারীদের আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের রূপান্তরিত শেয়ার সর্বোচ্চ ৩২৯ টাকায় কিনতে প্রলুব্ধ করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান জীবন বীমা করপোরেশনকে বন্ড কেনায় প্রলুব্ধ করতে দেওয়া প্রস্তাবপত্রে রূপান্তরিত শেয়ারের এমন দরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কাল্পনিক মুনাফার লোভ দেখানো হয়েছে। কোম্পানির বর্তমান শেয়ার দর হচ্ছে ৫৩ টাকা ৪০ পয়সা। বন্ড বিক্রির প্রস্তাবে তৃতীয় বছরে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৯ টাকা ১৪ পয়সা। আর ষষ্ঠ বছরে ইপিএস ১২ টাকা ৬৭ পয়সা হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শুধু জীবন বীমা করপোরেশন নয় বন্ড কিনতে রাষ্ট্রায়ত্ত আরও দুটি ব্যাংককেও প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। উচ্চমূল্যে শেয়ারে রূপান্তরযোগ্য এই বন্ড কিনে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল পরিমাণের লোকসানের সম্মুখীন হতে পারে, এমন শঙ্কা আছে। বন্ড ইস্যুতে অযোগ্যতা : আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ বন্ড ইস্যুর সংশোধিত প্রস্তাব পর্যালোচনা করে এসইসি দেখতে পায় যে, ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে কোম্পানিটির নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক, যা ডেট সিকিউরিটিজ আইনে অযোগ্যতা। কোম্পানিটি কার্যক্রম চালুর পর থেকে প্রায়ই নগদ প্রবাহে ঋণাত্মক অবস্থা দেখা গেছে। এমনকি বন্ড শেয়ারে রূপান্তর হলে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিত শেয়ার ধারণের পরিমাণ ৩০ শতাংশের নিচে নেমে যাবে। এটিও বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে অযোগ্যতা। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডেট সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২১-এর ৪(৪) ধারা থেকে অব্যাহতি চেয়ে কমিশনে আবেদন জানায় কোম্পানিটি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ও এসইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রভাবে কোম্পানির শেয়ার ধারণ ঠিক রাখতে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার ইস্যু করে মূলধন বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হবে বলে এসইসির গত ২৬ এপ্রিলের কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) রিপোর্ট অনুযায়ী, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের দুজন পরিচালক ঋণখেলাপি থেকে মুক্ত। অপর পরিচালক মো. আজিমুল ইসলাম, মো. আজিজুল ইসলাম, লুবনা ইসলাম, লুৎফুন নেসা ইসলাম ও নাবিলা সালামের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ঋণখেলাপি দেখানোর বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সর্বশেষ তিন বছরের নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের পণ্য বিক্রি ও পাওনা নিয়ে সন্দেহ, লভ্যাংশ্যে কর্মীর হিস্যায় নন-কমপ্লায়েন্স, বিলম্বিত কর দায় অতি মূল্যায়িত করার অভিযোগ ছাড়াও বিভিন্ন সিকিউরিটিজ আইন ভঙ্গের অভিমত রয়েছে। আর ২০২১ সালের ৩০ জুন হিসাব বছরে নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে নিরীক্ষক জানান যে, কোম্পানিটি সরাসরি রপ্তানিতে অসুবিধার মধ্যে রয়েছে। রপ্তানি আয়ের বেশিরভাগই এসেছে সাব কন্ট্রাক্ট থেকে। ২০১৯-২০ হিসাব বছর থেকেই কোম্পানির সরাসরি রপ্তানি আয় ধারাবাহিকভাবে কমতে দেখা গেছে। ২০২১ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানির রপ্তানি আয় ৩৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা থেকে ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকায় নেমে আসে। একটি শতভাগ রপ্তানিমুখী কোম্পানি হিসেবে এটি যুক্তিসংগত নয় বলে মন্তব্য করে বন্ড প্রস্তাব যাচাই করে দেখার পরামর্শ দিয়েছে এসইসির সংশ্লিষ্ট বিভাগ। আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারপ্রতি আয়ও (ইপিএস) ধারাবাহিকভাবে কমতে দেখা গেছে। ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে কোম্পানির ইপিএস ৪ টাকা ৩৭ পয়সা থেকে কমে ১ টাকা ৪৫ পয়সায় নেমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে এসইসির তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে মূলধন বৃদ্ধি বিভাগ। বন্ড ইস্যুর ঘোষণার পর ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ২০০ কোটি টাকার মূলধন বাড়ানোর ঘোষণা দেয় আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ। এই শেয়ার মূলত উদ্যোক্তা-পরিচালকদের নামে ইস্যু হবে। মূলধন বৃদ্ধির যৌক্তিকতা যাচাই করতে প্রতিষ্ঠানটির মূলধন ব্যয়ের খাত, পরবর্তী পাঁচ বছরের আর্থিক পরিস্থিতির পূর্বাভাস এবং কোম্পানির ঋণ সম্পর্কিত তথ্য চেয়ে পাঠায় এসইসি। অধিগ্রহণ করা কোম্পানির কাছ থেকে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্যাদি না পাওয়ায় এসইসিকে কোনো তথ্য দিতে পারেনি বলে জানায় আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ। এ অবস্থায় অধিগ্রহণ করা কোম্পানির ইকুইটি ও ঋণের পরিমাণ কীভাবে নির্ধারিত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এসইসির সংশ্লিষ্ট বিভাগ। তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বন্ড ও নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ দিয়ে অধিগ্রহণ করা কোম্পানি সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের ৩৬০ কোটি টাকার ব্যাংকঋণ ও অন্যান্য দায় পরিশোধের কথা বলেছে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ। এর মধ্যে রয়েছে ৩৪৮ কোটি টাকার ব্যাংকঋণ। কিন্তু আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ কোনো তথ্যাদি না দেওয়ায় সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের ব্যাংকঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়নি। সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের ওয়েবসাইটে কোনো আর্থিক তথ্য না থাকায় কোম্পানির স্টকের মূল্যায়ন, আর্থিক দায় এবং বন্ডের ব্যবহারের বিষয়টি পরিষ্কার নয়। এ ছাড়া বন্ডের চূড়ান্ত ব্যবহারকারী সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল হলেও কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি, এমনকি বন্ড ব্যবহারের বিস্তারিত পরিকল্পনাও জমা পড়েনি। এদিকে বন্ড শেয়ারে রূপান্তর হবে সর্বশেষ ২০ দিনের গড় মূল্যের ওপর ১০ শতাংশ হ্রাসকৃত মূল্যে। কিন্তু উদ্যোক্তা-পরিচালকদের নামে ইকুইটি শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব করা হয়েছে সর্বশেষ ১৮০ দিনের গড় মূল্যের ওপর ৪০ শতাংশ হ্রাসকৃত মূল্যে। ইকুইটি শেয়ারের ক্ষেত্রে ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়কালকে বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ হিসাবে ওই সময়কালে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের গড় মূল্য দাঁড়ায় ২৬ টাকা ৬৯ পয়সা। এ ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ হ্রাসকৃত মূল্যে নতুন ইস্যু করা শেয়ারের মূল্য হবে ১৭ টাকা ৮১ পয়সা। অথচ জীবন বীমা করপোরেশনকে দেওয়া বন্ড কেনার প্রস্তাবে দেখানো হয়েছে রূপান্তরিত শেয়ারের গড় মূল্য হবে ২৭৮ টাকা। নিজেদের নামে কম দামে শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমেও কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এ ছাড়া নতুন শেয়ার ইস্যুর ফলে কোম্পানির আর্থিক পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে কি না, তাও জানায়নি আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ। আলিফ ও এসইসির বক্তব্য : আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আজিমুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বানানো তথ্যে আর্থিক প্রতিবেদন তৈরির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তদন্ত দল যেসব তথ্য চেয়েছে তার সবই দেওয়া হয়েছে। তদন্তের পর পুরোপুরি ক্লিয়ারেন্স নেওয়ার পরই এসইসি আমাদের সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল অধিগ্রহণের অনুমোদন দিয়েছে। যদি কোনো অসংগতি থাকত তাহলে কোম্পানি অধিগ্রহণ কিংবা বন্ডের অনুমোদন এসইসির দেওয়ার কথা নয়।’ রূপান্তরযোগ্য বন্ডের শেয়ার দর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জীবন বীমা করপোরেশন আমাদের কাছে শেয়ার দরের পূর্বাভাস চেয়েছিল। যেহেতু বন্ডের ব্যবহারে সুফল মিলবে, আয় ও মুনাফা বাড়বে এবং আমাদের পরিশোধিত মূলধনও কম। ইপিএস বাড়লে শেয়ার দরও বাড়বে। সেটাই তাদের জানানো হয়েছে।’ নতুন ইস্যু করা শেয়ার ও রূপান্তরিত বন্ডের শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের সময় প্রসঙ্গে আজিমুল বলেন, উদ্যোক্তা-পরিচালকদের নামে যে শেয়ার ইস্যু করা হবে, তা লক-ইন থাকবে। চাইলেই বিক্রি করা যাবে না। আর রূপান্তরিত শেয়ার দর নির্ধারণ হবে বাজার মূল্যের ভিত্তিতে। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের কটন অ্যাসোসিয়েশন আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। যার কারণে কোম্পানিটি দুই বছর উৎপাদন করতে পারেনি। কিন্তু এ সময় অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রপ্তানি করেছে। পরবর্তীকালে সব কাগজপত্র ঠিক করে তারা বন্ডের আবেদন করলে তাতে অনুমোদন দেওয়া হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আলিফ গ্রুপ সাধারণত বন্ধ কোম্পানি কিনে সচল করে। তাদের এমন মনোভাবের কারণে সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল অধিগ্রহণের আবেদনে কমিশন সম্মতি দিয়েছে। আর সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের দায় পরিশোধ ও উৎপাদন চালু রাখার জন্য যে বন্ডের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তা কিন্তু প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে শুধু প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করতে হবে।’ facebook sharing buttontwitter sharing buttonlinkedin sharing buttonশেয়ার করুন কক্সবাজারমুখী দুয়ার খুলছে এবার | ২ জানুয়ারি, ২০২৩ ০০:০০ কক্সবাজারমুখী দুয়ার খুলছে এবার সিপিডিএল চট্টগ্রামের শীর্ষ রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেন ২০১০ সালেই আনোয়ারায় স্যাটেলাইট সিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছেন। তার পরিকল্পনা যে সুদূরপ্রসারী ছিল তা কর্ণফুলীর তলদেশ দিয়ে টানেল চালুর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। আগামী মার্চে পুরোদমে টানেল চালু হওয়ার পর পুরো আনোয়ারাসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামজুড়ে উন্নয়ন কর্মকা- গতি পাবে। এ বিষয়ে সিপিডিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিটাগাং চেম্বারের পরিচালক প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘টানেলকে ঘিরে ওয়ান সিটি টু টাউনের আদলে কর্ণফুলী নদীর অন্যপাড়ে (আনোয়ারা ও কর্ণফুলী অংশ) উন্নয়ন ঘটবে এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। এখন প্রয়োজন শুধু সঠিক পরিকল্পনা ও এর প্রয়োগ।’ তিনি আরও বলেন, ‘পারকি সমুদ্রসৈকত, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ কক্সবাজারমুখী উন্নয়ন নিশ্চিত করবে কর্ণফুলীর তলদেশের টানেল এবং সাগরের তীর দিয়ে নির্মিতব্য মেরিন ড্রাইভ।’ এ মেরিন ড্রাইভে আনোয়ারা থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ পর্যন্ত পুরো এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে উল্লেখ করে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মঈনুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন এ বছরে চালু হচ্ছে। এতে কক্সবাজারমুখী পর্যটকদের স্রোত বাড়বে। অন্যদিকে টানেলকে কেন্দ্র করে সাগরপাড় দিয়ে মিরসরাই থেকে টেকনাফ পর্যন্ত যে মেরিন ড্রাইভ নির্মিত হওয়ার কথা রয়েছে, তা হলে পুরো উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়নের জোয়ার বইবে। এতে এসব এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হওয়ার পাশাপাশি দেশেরও উন্নয়ন হবে।’ কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নামে করা টানেলের একটি টিউবের কাজ গত নভেম্বরে শেষ হওয়ার পর উদযাপন করা হয়। তবে যানবাহন চলাচলের জন্য টিউব খুলে দেওয়া হয়নি। আসছে মার্চ নাগাদ অন্য টিউবের কাজও শেষ হবে। ওই মাসেই টানেল খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের কাজ জুনে শেষ হবে এবং আগামী আগস্টে ট্রেন পরিচালনা শুরু করা যাবে এমন আশার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের মিরসরাইতে চালু হয়েছে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর। টানেলের অন্যপ্রান্ত আনোয়ারায় গড়ে তোলা হচ্ছে চায়না ইকোনমিক জোন। কক্সবাজারে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র, চট্টগ্রামের বাঁশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে অনেক আগেই জাইকা (জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি) বিগ বি ইনিশিয়েটিভ নিয়ে রেখেছে। আর এই বিগ বি’র আওতায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ কক্সবাজারের উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা যায়। টানেলকেন্দ্রিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ কাজী হাসান বিন শামস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নতুন বছরের মার্চে পুরোদমে চালু হবে টানেলের মাধ্যমে যান চলাচল। আর তাই আনোয়ারা ও কর্ণফুলী অংশে শহর সম্প্রসারণের জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে টানেল চালু হলে পুরো জোনটিই বদলে যাবে।’ কিন্তু টানেলকে কেন্দ্র করে যে যানবাহন কক্সবাজারমুখী চলাচল করবে সেই চাপ বহন করার ক্ষমতা কি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের রয়েছে? ১৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মহাসড়কের শিকলবাহা ওয়াই জংশন থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার অংশে রাস্তাটির প্রস্থ মাত্র ১৮ ফুট। আর এ অংশে সবচেয়ে বেশি যানজট লেগে থাকে। চার লেনের টানেল ও চার লেনের তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু দিয়ে আসা যানবাহন শিকলবাহা ওয়াই জংশন দিয়ে কক্সবাজার যাওয়ার পথে ভোগান্তিতে পড়বে। এ অবস্থা থেকে কীভাবে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের দোহাজারী সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যে ৪০ কিলোমিটার অংশে রাস্তার চওড়া ১৮ ফুট রয়েছে সেই অংশকে আমরা ৩৪ ফুটে উন্নীত করার কাজ করছি। এর মধ্যে শিকলবাহা ওয়াই জংশন থেকে পটিয়া পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার অংশ ৩৪ ফুটে উন্নীতকরণের কাজ প্রায় শেষের দিকে। এ ছাড়া বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির কাছ থেকে দোহাজারী মৌলবির দোকান পর্যন্ত ১২ কিলোমিটারের রাস্তা সম্প্রসারণ করতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।’ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের পরিচালক মফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২০২২ শেষে আমাদের ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এ বছরেই কক্সবাজারে ট্রেনে যাওয়া যাবে। কক্সবাজারমুখী মানুষের স্রোত বাড়বে এবং এ স্রোতকে ধারণ করার জন্য কক্সবাজারেরও উন্নয়ন প্রয়োজন।’ কক্সবাজারমুখী পর্যটকের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নকে কীভাবে ধারণ করবে এ বিষয়ে কথা হয় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর মোহাম্মদ নুরুল আবছারের সঙ্গে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কক্সবাজারে ৩ লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগের কাজ চলছে। মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ, সোনাদিয়া পর্যটন কেন্দ্র, সাবরাং পর্যটন কেন্দ্র, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে বৃহত্তর কক্সবাজার অঞ্চল হবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের হাব।’ facebook sharing buttontwitter sha
© All rights reserved © 2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি