1. Raju@rstartv.com : rstartv : rstartv
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
তবুও উড়ল আনন্দ ফানুস - R STAR TV
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৩ পূর্বাহ্ন

তবুও উড়ল আনন্দ ফানুস

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ১৯০ Time View

নিষেধ, বারণ আর হুমকি উপেক্ষা করল মানুষ! চোখরাঙানি পাশে রেখে তবুও উড়ল আনন্দ ফানুস।

উৎসবপ্রিয় বাঙালি যেকোনো কিছুতেই আনন্দ খুঁজে ফেরে। তা যত সামান্যই হোক। আর নববর্ষ বা বর্ষবরণ হলে তো কথাই নেই। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সবাই নেমে আসে রাস্তায়। শামিল হয় অগণিত মানুষের আনন্দযাত্রায়।

গত বছর থার্টি ফার্স্ট নাইটে রাজধানীর ২০০টি স্থানে ফানুস থেকে আগুন লাগে- বিষয়টি মানুষের অজানা নয়। আর এ কারণেই ডিএমপি কমিশনার কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন এ বিষয়ে। নিষেধ করেন ফানুষ ওড়াতে, আতশবাজি ফোটাতে।

তবুও মানুষ ফানুস ওড়ানোতে আনন্দ খুঁজে নেয়। আর নগরজুড়ে এমন অসংখ্য দৃশ্য নজরে পড়ে।ইংরেজি পুরনো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে রাজধানীবাসী। উন্মুক্ত স্থান ও বাড়ির ছাদে অনুষ্ঠান করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিধিনিষেধ থাকার পরও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপন করেছে রাজধানীবাসী। রাতে আতশবাজিতে রঙিন হয়ে ওঠে রাজধানীর আকাশ। ফানুস উড়িয়ে এবং আতশবাজি ফুটিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হয়।

তবে ফানুস থেকে রাজধানীর লালবাগে বিদ্যুতের তারে এবং সদরঘাটে মার্কেটের ছাদে আগুন লাগে। আগুনে হতাহতের কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার এরশাদ হোসেন রাত ১টায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘লালবাগ ও সদরঘাটে ফানুস থেকে আগুন লাগার তথ্য পাওয়া যায়। তবে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই আগুন নিভে যায়।’

এদিকে থার্টি ফার্স্ট নাইটে ঢাকা মহানগরীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে পুলিশ-র‌্যাব। রাতে বিভিন্ন সড়কে টহল বাড়ানো হয়। গুলশান, বনানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ কয়েকটি এলাকায় বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ ছিল।

গতকাল শনিবার সন্ধা থেকে সড়কের মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে টহল দিতে দেখা গেছে। র‌্যাবের ডগ স্কোয়াড সন্দেহভাজন গাড়ি তল্লাশি করেছে। গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানস্থলে ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপ করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোতেও ছিল পুলিশের নজরদারি। নগরে সোয়াট ও বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ছিল। কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে ফায়ার টেন্ডার ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সন্ধাা ৬টার পর বহিরাগতদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি শুধু শাহবাগ ও নীলক্ষেত এলাকার গেট দিয়ে প্রবেশ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র দেখিয়ে প্রবেশ করতে হয়। যার কারণে টিএসসি এলাকায় তেমন জনাকীর্ণ ছিল না। বিশৃঙ্খলা ও অতিরঞ্জিত করে নতুন বছরের প্রথম প্রহর উদযাপনে নিরুৎসাহিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন। তবে রাত ১২টা ১ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় শিক্ষার্থীরা ফানুস উড়িয়ে নতুন বর্ষকে বরণ করে নেয়।

এদিকে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় রাত ৮টার পর কাকলী ও আমতলী ক্রসিং বাদে সবগুলো সড়ক বন্ধ ছিল। রাতে হাতিরঝিল এলাকায় প্রবেশের সব রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বেপরোয়াগতিতে চলাচলকারী যানবাহন থামিয়ে তল্লাাশি চালায় পুলিশ ও র‌্যাব। জননিরাপত্তার স্বার্থে বাড়ির ছাদে কিংবা খোলা স্থানে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ঢাকা মহানগর পুলিশ।থার্টি ফার্স্ট নাইটে ফানুস ওড়ানো যাবে না স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। তারপরও রাজধানীর খুচরা ও পাইকারি দোকান থেকে শুরু করে ফুটপাত অলিগলিতে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে ফানুস। প্রশ্ন উঠেছে, দেদারসে ফানুস বিক্রির বিষয়ে কতটুকু নজর রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী? যে হারে ফানুস বিক্রি হচ্ছে তাতে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাতে ঢাকার আকাশে বিপুলপরিমাণ ফানুস উড়বে বলেই মনে হচ্ছে।

এখন পুলিশ কি করে, সেটাই দেখার।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ;এখা গেছে, পাইকারি-খুচরা দোকান থেকে শুরু করে অলিগলি ফুটপাতে বিক্রি হচ্ছে ফানুস। দরদাম করে ফানুস কিনে বাড়ি ফিরছেন শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী এমনকি বয়স্করাও। ব্যবসায়ীরা জানান, বিপুলপরিমাণ ফানুস বিক্রি হয়েছে। বিক্রি হয়েছে আতশবাজিও।

জানা গেছে, একেকজন ৫০০, ৭০০ থেকে হাজার পিস ফানুস বিক্রি করেছেন। ফানুস ওড়ানো বৈধ না অবৈধ পুলিশ থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে কি-না, এমন প্রশ্নে তারা বলছেন সরকার কি ব্যবস্থা নিয়েছে জানি না, পুলিশ বলেছে নিষিদ্ধ।

পুলিশ বলছে, ফানুস বিক্রির বিষয়টি তাদের নজরদারিতে ছিল এবং এখনও আছে। যারা করছে তারা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে করছে।

থার্টি ফাস্ট নাইট নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জানাতে গিয়ে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক জানান, কোথাও আতশবাজি, পটকা ফোটানো বা ফানুস ওড়ানো যাবে না। ঢাকা শহর অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ, আগেও এই ফানুস নিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ করছি ফানুস না ওড়ানোর জন্য। যদি কেউ ওড়ায় তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি