দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত দুজনের মধ্যে একজন মারা গেছেন।
সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার নাম আনিসুল হক ওরফে মিলন (২৮)।
দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার তানিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আনিসুল হক ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার রামানন্দপুর গ্রামের বাহার মিয়ার ছেলে। এনিয়ে গত শুক্রবার সকালে ঘটা ওই দুর্ঘটনায় ছয়জন মারা গেছেন। তারা সবাই ফেনী জেলার বাসিন্দা।
নিহতের ছোট ভাই রিমন মিয়াজী জানান, চাচাতো ভাই বাবলু মিয়া আনিসুল হক মিলনের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকেন। তিনি সেখান থেকে তাদের বাড়িতে মোবাইলে জানিয়েছেন, আনিসুল সেদেশের জর্জ হাসপাতালে মারা গেছেন।
রিমন বলেন, আমার বড় ভাই মিলন ১৩ বছর ধরে আফ্রিকায় থাকেন। গত কয়েক দিন আগে খালাতো বোনের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়েও করেছিলেন। কিন্তু নতুন বউকে ঘরে তোলা হলো না। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন তিনি। করোনা ও কাগজপত্র ঠিক করাসহ নানা কারণে তার দেশে ফেরা বিলম্বিত হয়। শুক্রবার দেশে আসার জন্যই তিনি বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন। অন্যরাও তার সঙ্গে প্রাইভেটকারে ছিল। দেশে ফিরে তার বিয়ের অনুষ্ঠান করার কথা ছিল। এজন্য তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বিয়ের অনেক বাজারও করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, তাদের দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে আনিসুল ছিলেন সবার বড়। তারও (রিমন) দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার কথাবার্তা চলছিল। একমাত্র উপার্জনক্ষম আনিসুলের পাঠানো টাকায় তাদের পরিবার চলত। ছোট বোনের বিয়েও হয়েছে তার পাঠানো টাকায়।
এর আগে একবার দক্ষিণ আফ্রিকায় তার ভাই সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হয়েছিলেন। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বাবা বাহার মিয়া কথা বলতে পারছেন না। লাশ দেশে আনতে সরকার সহযোগিতা কামনা করেছে আনিসুলের পরিবার।
দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত অন্য পাঁচজন হলেন- ফেনী সদর উপজেলার বিরলী গ্রামের ঈসমাইল হোসেন (৩২), দাগনভূঞার মমারিজপুর গ্রামের রাজু আহম্মেদ (৩৪), দক্ষিণ নেয়াজপুর গ্রামের মোস্তফা কামাল (৪০), সোনাগাজীর দক্ষিণ চর মজিলিশপুর গ্রামের আবুল হোসেন (৪২) ও তার ছেলে নাদিম হোসেন (১০)।
Leave a Reply