বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় পল্টন দাশ (৩২) নামের এক আইনজীবীকে জেল-হাজত প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (চতুর্থ আদালত) কাজী শরীফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৬ জুন পল্টন দাশের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চট্টগ্রাম নগরের কেতোয়ালি থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী। মামলার প্রেক্ষিতে একই বছরের ১১ জুন পল্টন দাশকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। ২৩ জুন জামিনে মুক্তি পান পল্টন দাশ। পরে জামিন আদেশ বাতিল করতে আদালতে রিভিশন দায়ের করেন বাদী। চলতি বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি পল্টন দাশের জামিন বাতিল করেন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ। রোববার আত্মসমর্পণ করলে শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে পল্টনকে জেল-হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
তদন্ত শেষে চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি আইনজীবী পল্টন দাশকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই আরাফাত হোসেন।
আইনজীবী পল্টন দাশের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা এলাকায়। তার বাবার নাম বঙ্কিম চন্দ্র দাশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম আইন কলেজে পড়ার সময় পল্টন দাশের সঙ্গে পরিচয় হয় শিক্ষানবিশ ওই নারী আইনজীবীর। পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে পারিবারিক জমিজমা নিয়ে পল্টনের কাছে নিয়মিত আইনি পরামর্শ চাইতেন ওই নারী। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিয়ে করার কথা বললে পারিবারিকভাবে প্রস্তাব দিতে পল্টনকে জানান ওই নারী। ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রামের আদালত পাড়ায় (দোয়েল ভবন,৭ম তলা-৭১৮ নম্বর কক্ষ) পল্টন দাশের চেম্বারে যাতায়াতের সুযোগে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে একাধিবার ধর্ষণ করেন পল্টন দাশ।
পরে বিয়ের কথা বললে ওই নারীর সাথে নানা টালবাহনা করতে থাকেন আইনজীবী পল্টন দাশ। এক পর্যায়ে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন ওই নারী। বিষয়টি জানালে ওই নারীকে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে ফেলার কথা জানান পল্টন দাশ। সন্তান নষ্ট না করলে ওই নারীর বিশেষ কিছু ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন পল্টন দাশ। টাকা-পয়সা দিয়ে আপোষ-মীমাংসার প্রস্তাবও দেন পল্টন। এক পর্যায়ে ওই নারীর সাথে প্রেমের সম্পর্কের কথা পুরোপুরি অস্বীকারও করেন পল্টন। অবেশেষে বাধ্য হয়ে ২০২১ সালের ৬ জুন নগরীর কেতোয়ালি থানায় মামলা করেন ওই নারী।
মামলা দায়েরের পর চমেকের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভুক্তভোগীর নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করে পুলিশ। মামলাটি তদন্ত করেন কোতোয়ালি থানার তৎকালীন এসআই আরাফাত হোসেন। তদন্তকালীন সময়ে ২০২১ সালের ৩১ আগস্ট ওই নারী তার গ্রামের বাড়িতে একটি কন্যা সন্তানের জম্ম দেন। আদালতে পিতৃত্ব পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য এক মাস পর ওই শিশুর এবং আসামি পল্টন দাশের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশ। সম্প্রতি ডিএনএ রিপোর্ট অদালতে জমা দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
Leave a Reply