জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলের উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের বলেছেন, বাংলাদেশ অত্যন্ত দুঃসময় পার করছে। যেভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে তাতে সাধারণ মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। আজকে মধ্যবিত্তরা নিম্নবিত্ত নয়, অনেকে গরিব হয়ে গেছেন। চাকরিজীবীর বেতন বাড়ে নাই, ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হচ্ছে।’শনিবার (৩ জুন) নরসিংদী জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে জেলা জাতীয় পার্টির দ্বি বার্ষিক সম্মেলনে দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি ও বাজেট প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশকে এই অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে হলে একদলীয় স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত করতে হবে। তা না হলে না খেয়ে মারা যেতে হবে, কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাবে, সেখানে কথা বলার কোনো অধিকার থাকবে না। সাংবাদিকরা এসব নিয়ে সমালোচনা করলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে নির্যাতন করা হয়।’
এসময় অর্থমন্ত্রী আ.হ. ম মোস্তফা কামালকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ঘোষিত বাজেট কীভাবে জনবান্ধব বাজেট হয়েছে সেটি বুঝিয়ে দেয়ার আহবান জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন ট্যাক্স দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারছে না, সংসারের খরচ কমাতে পারছে না। ঘোষিত বাজেটের ফলে যখন আরও বাড়তি ট্যাক্স দিতে হবে এবং জিনিসপত্রের দাম আরও ঊর্ধ্বগতি হবে, মূল্যস্ফীতি যখন আকাশচুম্বী হবে তখন সাধারণ মানুষ কী করে বাঁচবে?’
সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো. মজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ৩৩টা বছর দেশ শাসন করেছে। দুটি দল লুটপাট করে খেতে খেতে আবারও পাগল হয়ে গেছে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য।’
এবারের বাজেটকে ‘জনস্বার্থ বিরোধী’ দাবি করে মজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘একটা কলমের মধ্যে ১৫ শতাংশ ট্যাক্স আরোপ করেছে এই সরকার। আমরা ভোটযুদ্ধে নেমেছি, ক্ষমতার পরিবর্তনের যুদ্ধ। ৩৩ বছরে যে দুই দল জনগণকে কষ্ট দিয়েছে, দুর্নীতি করেছে, টাকা পাচার করেছে, দুঃশাসন দিয়েছে, গণতন্ত্র নষ্ট করেছে। এই দুই দলের বাইরে জনগণের স্বার্থে ৩০০ আসনে লড়ে আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় যেতে চায় জাতীয় পার্টি।’
জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ওমর ফারুক মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইসলাম এমপি, নাজমা আক্তার এমপি, লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, আলমগীর সিকদার লোটনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
Leave a Reply