1. Raju@rstartv.com : rstartv : rstartv
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
ভাষাসৈনিকের নামের মঞ্চ ভেঙে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ - R STAR TV
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন

ভাষাসৈনিকের নামের মঞ্চ ভেঙে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ২০৯ Time View

সত্তরের দশকে ঈশ্বরদী পুরাতন বাস টার্মিনালে রেলের পরিত্যক্ত জায়গায় নির্মাণ হয় মুক্তমঞ্চ। নামকরণ করা হয় ‘ভাষা সৈনিক মাহবুব আহমেদ খান স্মৃতি মঞ্চ’। মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলন-সংগ্রাম, সভা-সমাবেশের কেন্দ্রবিন্দু এ মঞ্চ। সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান এ মুক্তমঞ্চেই অনুষ্ঠিত হতো। এ মঞ্চকে ঘিরে ঈশ্বরদীর মানুষের আবেগ, অনুভূতি, পুরানো স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় ম্যানেজার শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ শাহ সূফির নেতৃত্বে এ মঞ্চসহ আশপাশের দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মঞ্চ না ভাঙার অনুরোধ জানালেও তা গুড়িয়ে দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ভাষা সৈনিকের নামে নির্মিত মঞ্চের স্থানে আধুনিক পাবলিক নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেই আধুনিক পাবলিক টয়লেটের উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) অসিম কুমার তালুকদার। এসময় পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় ম্যানেজার শাহ সুফি নূর মোহাম্মদসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ভাষা সৈনিক মাহবুব আহমেদ খানের নামে নির্মিত মুক্তমঞ্চ ভেঙে ফেলার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরদিন ৯ ফেব্রুয়ারি মঞ্চ ভাঙার প্রতিবাদে ঈশ্বরদীর সচেতন যুবসমাজের ব্যানারে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন। সমাবেশে বক্তারা দ্রুত মঞ্চ নির্মাণ করার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও মঞ্চ পুণঃনির্মাণের দাবি জানান। এতে রেল কর্তৃপক্ষ কর্ণপাত না করে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করায় ক্ষুদ্ধ ঈশ্বরদীর সকল স্তরের মানুষ। বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ত ম শহিদুজ্জামান নাসিম বলেন, ভাষা সৈনিকের নামে নির্মিত মঞ্চ ভেঙে সেখানে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বাধীন দেশে এ ধরনের একটি ন্যক্কারজনক কাজ দেখতে হবে তা ভাবতে পারিনি। এখানে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ না করে পাশেই রেলের অসংখ্য পরিত্যক্ত জায়গা ছিল, সেখানে টয়লেট নির্মাণ করতে পারতো। আমি নিজেও রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং এখানে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ না করে ৫০ গজ দূরে অথবা আশপাশের রেলের পরিত্যক্ত জায়গায় নির্মাণের দাবি জানিয়েছিলাম কিন্তু তারা কোনো কর্ণপাত করেনি। এটি আমাদের ঈশ্বরদীবাসীর জন্য কলঙ্ক ও দুঃখের বিষয়।

ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান বলেন, এ মঞ্চের সঙ্গে এখানকার রাজনীতির নানান স্মৃতি জড়িয়ে আছে। দলীয় জনসভার পাশাপাশি এখানে সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নানা অনুষ্ঠান হয়। মঞ্চ ভেঙে ফেলার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বেশি কষ্ট পেয়েছি এখানে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করায়। এ বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করলেও তারা কোনো কর্ণপাত করেনি।

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক শাহ সুফী নূর মোহাম্মদ বলেন, ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনকে আধুনিকীকরণের জন্য রেলের পরিত্যক্ত জায়গায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এখানে একটি মঞ্চ ছিল সেটিও উচ্ছেদ করা হয়। পরবর্তীতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখানে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা হয়েছিল ভেঙ্গে ফেলা মঞ্চের আশেপাশে একটি মঞ্চ নির্মাণ করা হবে। সে বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি