২২ গজে অনেক সমালোচনা কাটিয়ে গেল বছর কাটিয়েছিলেন স্বপ্নের মতো; যা শুরু হয়েছিল বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত হওয়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) দিয়েই। এরপর জাতীয় দলের দেশে কিংবা দেশের বাহিরে এশিয়া কাপ কিংবা ওয়ানডে বিশ্বকাপ সবখানেই নিজের ছাপ রেখেছিলেন। ব্যাট হাতেও ছিলেন ধারাবাহিক। তাতে হয়ে উঠেছিলেন টাইগারদের টপ অর্ডারের ভরসার নাম। তবে বছরের শেষ দিকে সব কিছুকে ছাপিয়ে যায়। অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব পেয়ে ঘরের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ম্যাচ জয় পরে তাদের দেশে গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয় পায়। সব মিলিয়ে গেল বছর এমন পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তার ওপর ভরসা রেখে তিন ফরম্যাটের নেতৃত্বের ভার তার কাঁধেই তুলে দিয়েছে। তার নেতৃত্বেই চলতি বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালো কিছুর প্রত্যাশা করছে বোর্ড ও সমর্থকরা। কিন্তু সেখানে ভাবাচ্ছে চলতি বছরের শুরু থেকে তার রান খরায় কাটানোর বিষয়টি। চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ব্যাট হাতে ধুঁকছে শান্ত। এখন পর্যন্ত আসরটিতে ১০ ম্যাচে মাঠে নেমে ৯৩.৯৩ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন ১২৪। যদিও শুরুটা ভালো পেয়েছিলেন তিনি। আসরের প্রথম দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে মাঠে নেমে ৩৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। সেটি এখন পর্যন্ত চলমান আসরে তার খেলা সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। পরের ম্যাচে বড় প্রতিপক্ষ রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে তার রান ১৪। তবে এরপর দুই অঙ্কের ইনিংস খেলতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে পাঁচ ম্যাচ। চট্টগ্রামের ও কুমিল্লার বিপক্ষে পাঁচ রান, বরিশালের বিপক্ষে ৯ রানের পর ঢাকার বিপক্ষে করেছেন তিন আর রংপুরের বিপক্ষে রান ছিল এক। লম্বা সময় পর দুর্দান্ত ঢাকার বিপক্ষে এসে পেয়েছিলেন ৩৩ রান। এরপর খুলনার বিপক্ষে ১৮ রানের ইনিংস খেলেন। তবে গতকাল বরিশালের বিপক্ষে রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরেছেন তিনি। আর তার পাশাপাশি তার দলও ডুবেছে এবারের বিপিএলে। দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই বাতিলের তালিকায় চলে গেছে তারা।
অথচ সবশেষ বিপিএলে শান্ত যেন ছুটেছিল অন্য এক গতিতে। দেশি-বিদেশি ব্যাটারদেরই ধরাছোঁয়ার বাহিরে ছিলেন তিনি। হয়েছিলেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। যেখানে ঐ আসরে মাঠে নামার আগে তাকে সমর্থন দেওয়ার লোকদের সংখ্যা হাতে গোনা যেত। শুধু তাই নয়, শান্তর মাঠের খেলা নিয়ে আলোচনার থেকেও বেশি সমালোচনা। সবখানে শুনত কটু কথা।
তবে সেগুলোকে একপাশে রেখে তিনি চার ফিফটির পাশাপাশি চারটি ত্রিশ ছোঁয়া ইনিংস খেলে ৩৯.৭০ গড়ে ৫১৬ রান। তার এমন পারফম্যান্সে দল ফাইনাল অবধি খেলেছিল। ঐ বিবেচনাতেই ফাঞ্চাইজিটি শান্তকে ফের ভিড়িয়েছিল দলে। তাকেই দলটির ব্যাটিং লাইনআপের মূল শক্তি ভাবা হচ্ছিল। তবে সে ব্যর্থ, সঙ্গে দলও।
এদিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বছর এটি। তার আগে দলের টপ-অর্ডারের ব্যাটারের এমন রান খরায় থাকা কিছুটা অশনিসংকেত বলা যায়। যদিও তিনি নিজেকে ফের ছন্দে ফেরাতে খানিকটা সময় পাবেন। মার্চ ও এপ্রিলে ঘরের মাটিতে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে। তবে সেখানেও তিনি ব্যর্থ হলে অধিনায়ক শান্ত দলের ভরসার নাম না হয়ে বোঝা হিসেবেই ভূমিকা রাখবেন।
Leave a Reply