1. Raju@rstartv.com : rstartv : rstartv
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
ক্যারিয়ারের ছয় বছরের মাথায় বিয়ের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল: জুলিয়া রবার্টস - R STAR TV
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১২ অপরাহ্ন

ক্যারিয়ারের ছয় বছরের মাথায় বিয়ের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল: জুলিয়া রবার্টস

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৪
  • ১৬১ Time View

৯০ দশকের শুরুতে ‘প্রিটি ওম্যান’ সিনেমা দিয়ে আলোচনায় আসেন হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জুলিয়া রবার্টস। ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে ব্যস্ততা। তবে মান বিচার করেই সিনেমায় নাম লেখান এই অভিনেত্রী। কারণ, ক্যারিয়ারে একের পর এক নিজেকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। এমন সময় হুট করেই ভালোবাসার মানুষ লাইল লাভটকে বিয়ে করে বসেন। ক্যারিয়ারের ছয় বছরের মাথায় বিয়ের সিদ্ধান্ত যে তার ২৬ বছরের জীবনকে এলোমেলো করে দেবে, সেটা ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি ৯০ দশকের এই উঠতি তারকা। জুলিয়া রবার্টস মনে করতেন, বিয়ের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। নিজেদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় তিন বছরও টেকেনি তাদের সংসার। বিচ্ছেদের পরে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। আজ তার জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে এক দশক ধরে আলোচনায় আসে, দ্বিতীয় সংসারে কেমন আছেন অস্কারজয়ী এই তারকা। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচ্ছেদের পর অনেকটাই ভেঙে পড়েন জুলিয়া রবার্টস। তবে ব্যক্তিগত জীবনের প্রভাব ক্যারিয়ারে পড়তে দেননি। কিছু ভালো সিদ্ধান্তের ফলে ‘এভরিওয়ান সেস আই লাভ ইউ’, ‘মাই বেস্ট ফ্রেন্ডস ওয়েডিং’ সিনেমাগুলো তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং ব্যক্তিগত জীবন আড়ালে চলে যেতে থাকে। বরং একের পর এক ছবির মাধ্যমে হলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে থাকেন। এর মধ্যে বিচ্ছেদের সাত বছর পর নতুন করে এক বসন্তে আবার প্রেমে পড়েন। ২০০০ সালে ‘দ্য মেক্সিকান’ সিনেমার শুটিংয়ে চিত্রগ্রাহক ড্যানিয়েল মডারের সঙ্গে প্রেম জমে ওঠে জুলিয়ার। তার এক বছর পরই প্রথমবার অস্কার লাভ করেন তিনি, ‘এরিন ব্রকোভিচ’ সিনেমার জন্য। প্রেমের দুই বছর পর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা। গভীর এক রাতে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন জুলিয়া ও মডার। ক্যারিয়ারে কি আবারও ক্ষতির মুখে পড়বেন, এমন আশঙ্কা ছিলই। কারণ, অস্কারজয়ের পর সম্ভাবনাময় শিল্পীর তালিকায় তার নাম উঠে আসে।

জুলিয়া তখন ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গণমাধ্যমে সরব হন। তিনি নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, তিনিই নিজেই পুরো ব্যাপারটা গুছিয়ে নিয়েছেন। তার আগে আরেক অভিনেতার সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও সেই সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসেন তিনি। আলাদা থেকেই পুরো বিষয়টি সাজিয়েছেন। ‘আমিও আমার জীবন গোছানোর চেষ্টা করছিলাম। আগের সম্পর্কগুলো থেকেও আলাদা থাকছিলাম। এটাই বোধ হয় আমাদের খুবই কাছাকাছি নিয়ে আসে। আমরা প্রেমে পড়ি। একসঙ্গে থাকার স্বপ্ন দেখি,’ বলেন জুলিয়া। চিত্রগ্রাহককে বিয়ে করার পর জুলিয়া রবার্টস পিপল ম্যাগাজিনে ভালোবাসা নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি বলেন, এই গ্রহের মধ্যে তার সবচেয়ে পছন্দের মানুষ, প্রিয় মানুষ তার স্বামী। জুলিয়ার মতে, ‘এটা আশ্চর্যজনক ছিল। তাকে পাওয়া আমার কাছে বড় কিছু পাওয়া। যে কারণে আমি তার সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসি। তার চিত্রগ্রহণেও কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। আমার স্বামী আমার কাছে এই গ্রহের সেরা পছন্দের মানুষ। কারণ, তার নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি আমার কাছে মূল্যবান।’

বিয়ের পরে মডার ও জুলিয়াকে খুব বেশি ছবিতে একসঙ্গে দেখা যেত না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মডারের পোস্টে ২০১৬ সালের আগে জুলিয়াকে তেমন পাওয়া যায়নি। ‘দ্য মানি মনস্টার’ সিনেমা নিয়ে তারা কান চলচ্চিত্র উৎসবে গেলে তাদের দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে ক্যামেরায় ধরা পড়তে দেখা যায়। তার আগে ব্যক্তিজীবনকে তারা অন্যদের মতো প্রকাশ্যে আনতেন না। কিন্তু দিনগুলো তাদের ভালো কাটছিল।

পিপলস ম্যাগাজিনে বিশ্বের সেরা সুন্দরী নারীর তালিকায় ২০১৭ সালে জায়গা পান জুলিয়া রবার্টস। সেবার ৫ বারে পৌঁছায় তার এই রেকর্ড। আর এবারই প্রথম ভক্তদের রহস্যটা বলে দেন তিনি। পরিবারের সঙ্গে কাটানো সুন্দর দিনগুলো তাকে অনুপ্রেরণা দেয় বলে জানান জুলিয়া। শুধু তা-ই নয়, প্রকাশ্যে আনেন বিয়ের পরের ১৪ বছরের নানা ঘটনা। জুলিয়া আরও বলেন, ‘আমি এখনো মডারকে নিয়ে বিস্ময়ের মধ্যে থাকি। আমি বোঝাতে চাইছি, প্রতিদিন আমার স্বামী দরজা দিয়ে হেঁটে যায়, এটা আমার কাছে পুনরাবৃত্তি স্বপ্নের মতো মনে হয়। আমার কাছে মনে হয়, আমার স্বপ্ন ফিরে এসেছে।’ভালোবাসা নিয়ে এই তারকা দম্পতির মধ্যে রয়েছে সম্মানবোধ। সেটা বেশ কয়েকবার মডারের পোস্টে প্রকাশ্যে আসে। তাদের বিয়ের দেড় দশকের আয়োজন চমকে দেয় জুলিয়াকে।

সেবার ডেনিয়েল মডার স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পোস্টে লিখেছেন, ‘এই সুন্দরী মহিলা ও আমি একে অপরকে কিছু সময়ের জন্য অনুসরণ করছি।’ তার পোস্ট করা সেই ছবিতে দেখা যায়, বাগানের লম্বা ঘাসের মধ্য দিয়ে হাঁটছেন জুলিয়া। তিনি আরও লিখেছেন ‘আমাদের বিয়ের আজ ১৫ বছর। এখনো লক্ষ করি, সে বাগানের মতোই কতটা সবুজ। আমি তোমাকে ভালোবাসি।’

হলিউডে যেখানে একের পর এক তারকাদের বিচ্ছেদ ঘটতেই থাকে, সেখানে প্রশ্ন জাগতে পারে, ২২ বছর আগের সেই সংসার কি আদৌ টিকে আছে? কেমন চলছে সেই অভিনেত্রী আর চিত্রগ্রাহকের সংসার? এ নিয়ে কানাঘুষা নতুন নয়। এ ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ের পর এমন গুঞ্জন প্রায়ই ছড়ায়, কেন তাদের বিয়ে এত দিন টিকে আছে? অপরাহ উইনফ্রেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত জীবনের গুঞ্জন নিয়ে জুলিয়া মনখারাপ করে সে সময় বলেন, ‘দেখা যেত, প্রায়ই আমরা মুদিদোকানে কেনাকাটা করার জন্য যেতাম। সেখানে গিয়েই ট্যাবলয়েডগুলোয় চোখ পড়ত। আমার দীর্ঘদিনের সংসার নিয়ে গুঞ্জন। তার আগে আমি এটা কোথাও শুনিনি। সত্যিই এগুলো আমার কাছে ছিল অসহনীয়। এটা আমার হৃদয়কে আঘাত করেছে। কারণ, আমি আমার স্বামীকে নিয়ে গর্বিত। মাত্রই আমরা আনন্দের সঙ্গে ১৬তম বিবাহবার্ষিকী পার করেছি। সেই সঙ্গে সুখেও আছি। আমরা একসঙ্গে সংসারে যা পেয়েছি, তা অনেক পাওয়া।’

এ সময় অপেরার একটি শোতে সাক্ষাৎকারে মজা করে জুলিয়া বলেন, ‘দেখা যাবে, এরপর ট্যাবলয়েডগুলো লিখবে, ১৫০ মিলিয়ন ডলারের বিচ্ছেদ! তার পরের সপ্তাহে আরেক ট্যাবলয়েড লিখবে, ২৭৫ মিলিয়ন ডলারের বিচ্ছেদ! কেউ আবার হয়তো চেক পাওয়ার গল্পও ছাপবে।’ জুলিয়ার জন্ম ১৯৬৭ সালের ২৮ অক্টোবর। তিনি তিন সন্তানের জননী।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি