বিশেষ প্রতিনিধি :কমল কুমার শীল
*বদলগাছী, নওগাঁ:* বাজারে আগুন, সবকিছুর দাম আকাশচুম্বী। চাল, ডাল, তেল কিংবা ওষুধ—নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের আঁচ দেশের সর্বস্তরের মানুষের গায়েই লাগছে। তবে এই একই বাজারে যখন দেশের জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে প্রান্তিক সরকারি কর্মচারী কেনাকাটা করতে যান, তখন উদঘাটিত হয় দুটি ভিন্ন ও চরম বৈষম্যপূর্ণ বাস্তবতা।
*১১ বছর ধরে নতুন পে স্কেল নেই, মূল্যস্ফীতিতে নাকাল কর্মচারীরা*
দীর্ঘ ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীদের নতুন কোনো পে স্কেল বাস্তবায়ন হয়নি। বিগত এক দশকে নিত্যপণ্যের দাম বহুগুণ বাড়লেও কর্মচারীদের মূল বেতন রয়ে গেছে সেই পুরোনো কাঠামোর জায়গাতেই। বিশেষ করে ১৫ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন মাত্র ৮,২৫০ থেকে ৯,৭০০ টাকা, যা দিয়ে বর্তমান বাজারে বদলগাছীর মতো গ্রামীণ অঞ্চলেও পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটানো অসম্ভবের কাছাকাছি।
*ভাতার চরম বৈষম্য: ১ থেকে ১০ম গ্রেড বনাম নিম্ন গ্রেডের বাস্তবতা*
সরকারি চাকরিতে ১ম থেকে ১০ম গ্রেডের উচ্চপদস্থ ও গেজেটেড কর্মকর্তারা বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা, প্রেষণ ভাতা, গাড়ি ও আপ্যায়ন ভাতা পান। কিন্তু প্রশাসনের মূল চালিকাশক্তি ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা সেই অনুপাতে চরম উপেক্ষিত।
* *উপহাসের ভাতা:* নিম্নধাপের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা মাত্র ২০০ টাকা এবং চিকিৎসা ভাতা মাত্র ১,৫০০ টাকা, যা বর্তমান মূল্যস্ফীতির যুগে একপ্রকার উপহাস ছাড়া কিছুই নয়।
*এমপিদের লাখ টাকার ভাতার পর কষ্টের কথা: প্রশ্ন জাগে আইনে কি সবার জন্য সমান চিন্তা আছে?*
আইন অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্য প্রতি মাসে মূল বেতন, এলাকা পরিচালনা, ভ্রমণ, আপ্যায়ন ও নানা সরকারি সুযোগ-সুবিধা মিলিয়ে প্রায় দেড় থেকে পৌনে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সুবিধা পান। এর বাইরে রয়েছে এককালীন কোটি টাকার করমুক্ত (Duty-Free) গাড়ি আমদানির এক বিশাল সুযোগ। সম্প্রতি প্রবীণ রাজনীতিক ও সংসদ সদস্যরাও স্বীকার করেছেন যে, এই পরিমাণ ভাতা পাওয়ার পরও বর্তমান বাজারে সংসার চালানো এবং এলাকা সামলানো তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এখানেই সাধারণ মানুষের মনে ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বড় একটি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—**গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে যেখানে আইন ও রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধায় সমতার কথা বলা হয়েছে, বাস্তবে কি সবার জন্য সমান চিন্তা করা হচ্ছে?** লাখ টাকা ভাতা ও কোটি টাকার গাড়ি সুবিধা পাওয়ার পরও যদি একজন জনপ্রতিনিধির জীবন পরিচালনা কঠিন হয়, তবে সুদীর্ঘ ১১ বছর ধরে পে স্কেল না পাওয়া এবং বৈষম্যমূলক ভাতার শিকার ১৫-২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা কীভাবে জীবন রক্ষা করছেন?
*সমাজ ও সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টি আকর্ষণের আহ্বান*
জনপ্রতিনিধি ও উচ্চপদস্থদের ভাতার সাথে প্রান্তিক কর্মচারীদের এই তুলনা কোনো বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য নয়; বরং সমাজের বিবেককে জাগ্রত করার জন্য। ১১ বছরের বেতন স্থবিরতা ও ভাতার অসামঞ্জস্যতা নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বাধ্য করছে দেনাগ্রস্ত হতে, যা পরোক্ষভাবে প্রশাসনিক গতিশীলতা ও সততার ক্ষেত্রেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
*আর স্টার টিভির দৃষ্টিতে:*
রাষ্ট্রের উন্নয়ন এবং সৎ প্রশাসনিক ব্যবস্থা বজায় রাখতে ১১ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ১৫ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনমানের নিরাপত্তা দেওয়া এখন সময়ের সবচেয়ে বড় মানবিক দাবি। দেশের সর্বস্তরের মানুেষর আকুল প্রত্যাশা—সরকার বাস্তবতার নিরিখে সাংবিধানিক সমতার নীতি বজায় রেখে অবিলম্বে একটি বৈষম্যহীন *৯ম পে স্কেল* ঘোষণা করবে এবং প্রজাতন্ত্রের নিম্নধাপের কর্মচারীর অমানবিক জীবনযুদ্ধ থেকে মুক্তি দেবে।
Leave a Reply