সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন অজ্ঞাত এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ।
আটককৃতরা হলো- উপজেলার মুজিবনগর গ্রামের জলিল মিয়ার ছেলে জব্বার মিয়া, একই গ্রামের বারেক মিয়ার ছেলে বাচ্চু মিয়া ও বুধিগাঁও হাওর গ্রামের হারুনুর রশিদের ছেলে সেবুল মিয়া।
এদের মধ্যে বাচ্চু মিয়া ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর দুজনও পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ এসব তথ্য জানিয়েছে।
গোয়াইনঘাট সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) প্রবাস কুমার সিংহ সাংবাদিকদের জানান, আসামি বাচ্চু মিয়া, জব্বার মিয়া ও সেবুল মিয়া নিয়মিত ইয়াবা সেবন করতো। তারা মাঝে মধ্যে ভারতীয় খাসিয়াদের বাগান থেকে সুপারি চুরি করতো। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় ছোট ছোট চুরির অভিযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, গত ১১ ডিসেম্বর রাত অনুমান ১০:০০ ঘটিকার দিকে বাচ্চু মিয়া, জব্বার মিয়া ও সেবুল মিয়া জব্বারের ঘরে বসে ইয়াবা সেবন করে। এক পর্যায়ে তারা মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করে।
পরে কেক, বিস্কুট ও কোমল পানীয় লোভ দেখিয়ে সিলেটের তামাবিল পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন বাজার থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীকে স্থানীয় একটি টিলায় নিয়ে যায়।
সেখানে তিনজনে মিলে ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এতে বাধা দিলে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে লাঠি ও পাথর দিয়ে ওই নারীর মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।
এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পরে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) শেখ মোঃ সেলিম, গোয়াইনঘাট সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) প্রবাস কুমার সিংহ ও গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
একই সঙ্গে সিআইডি ও পিবিআই’র ফরেনসিক টিম নিহতের পরিচয় শনাক্তের জন্য মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ঘটনার আলামত সংগ্রহ করে।
এ ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানার এসআই জহিরুল ইসলাম খান বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ১২ ডিসেম্বর থানায় মামলা দায়ের করেন।
সিলেট জেলার পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুনের দিকনির্দেশনায় ক্লু-লেস মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইমরুল কবির এক সপ্তাহের মধ্যে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে।
পুলিশ জানায়, জব্বার মিয়াকে গত ১৫ ডিসেম্বর, বাচ্চু মিয়াকে ১৮ ডিসেম্বর আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। ১৯ ডিসেম্বর রাতে সেবুল মিয়াকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যমতে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পাথরখণ্ড, ওই নারীর কাপড় ও ব্যবহৃত কম্বলের পোড়া অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে এম নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কিনা তা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অজ্ঞাত ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ঘুরাঘুরি করতো। রাতে গোয়াইনঘাট তামাবিল পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন বাজারে কাসেম পাগলার ভাঙারির দোকানের সামনে ও আশরাফের বাড়ির আঙিনায় পরিত্যক্ত ঘরে রাত্রিযাপন করতো বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
Leave a Reply