1. Raju@rstartv.com : rstartv : rstartv
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ছাত্রীকে বিয়ে, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ - R STAR TV
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩১ পূর্বাহ্ন

মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ছাত্রীকে বিয়ে, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ১৮৪ Time View

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ছাত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে। উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের দক্ষিণ রামখানা রহমতিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার নেছার আহম্মেদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে অত্র মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষকদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ছাত্রী।

অভিযোগে জানা যায়, ওই ছাত্রী আলিম শ্রেণিতে ভর্তি হন। তার দাখিল পরীক্ষা পাসের সনদপত্রে নাম ভুল থাকার বিষয়টি মাদ্রাসা সুপার নেছার আহম্মেদকে জানান। এ সুযোগে তার কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে নেন মাদ্রাসা সুপার। একপর্যায়ে ছাত্রীর আলিম পরীক্ষা চলতি বছরের ৬ নভেম্বর শুরু হয়ে ৪ ডিসেম্বর শেষ হয়। এরই মাঝে ওই সুপারের সঙ্গে তার দুদিন সাক্ষাৎ হয়। এ সময় সুপার তার ভাগনির সঙ্গে ওই ছাত্রীর পরিচয় করিয়ে দেন। শেষ দিন পরীক্ষার পর মাদ্রাসা সুপার তার ভাগনি, বোন ও মায়ের সহযোগিতায় ছাত্রীকে বোনের বাড়ি নিয়ে যায়। সেখানে খাওয়া-দাওয়া ও কথা বলার একপর্যায়ে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে একটি ফরমে জোরপূর্বক ছাত্রীর স্বাক্ষর করিয়ে নেয়া হয়। পরে ছাত্রী জানতে পারেন, নেছার আহম্মেদের সঙ্গে তার বিয়ে হয়ে গেছে।

আরো জানা যায়, এরপর ওই মাদ্রাসা সুপার তাকে আটকে রাখেন। এ সময় ছাত্রীর পরিবার বিয়ের বিষয়টি মেনে নিয়ে তাদের দুজনকে বাড়িতে দাওয়াত করেন। কিন্তু প্রতারক মাদ্রাসা সুপার ছাত্রীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয় এবং তার সঙ্গে আর সম্পর্ক রাখবে না বলে জানায়। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর পরিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে অভিযোগও করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই মাদ্রাসা সুপার এর আগে দুটি বিয়ে করেন।

প্রথম স্ত্রী জানান, তাদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাকে নানাভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করতেন নেছার আহম্মেদ। পরে চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর তাকে বাড়িতে রেখে যান নেছার। এরপর জানতে পারেন যে তালাক দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নেছার গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন ফুলবাড়ী উপজেলার তেলিটারি এলাকার এক সন্তানের জননীকে। পরে এক সময় তাকেও তালাক দেন বলে।

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, ওই সুপার শিক্ষক নামের কলঙ্ক। আমাদেরও সন্তান তার মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে। সেখানে তিনি নিজেই যদি এ রকম হন তাহলে বাচ্চাদের নিরাপত্তা কোথায় থাকে।

স্থানীয়রা জানান, নেছার এক সময় জামায়াতের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। সে সময় দেশে নাশকতা ও অস্থিতিশীল পরিবেশে সৃষ্টির অপরাধে তাকে আটক করে পুলিশ। তিন দিন জেলহাজতেও ছিলেন বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, প্রথম স্ত্রীর ভাইয়ের কাছ থেকে দুই বছরের মধ্যে পরিশোধ করবেন আশ্বাস দিয়ে ১০০ টাকার দুটি নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিনামায় নিজেই স্বাক্ষর করে ২০১৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর নগদ ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন নেছার। এ অভিযোগে লিগ্যাল নোটিশও পাঠানো হয়েছে তাকে।

প্রতারণার শিকার প্রথম স্ত্রীর ভাই বলেন, ওই সুপার আমার বোনকে প্রথম বিয়ে করে একইভাবে অভিভাবকদের অনুপস্থিতিতে। পরে আমাদের কিছু না জানিয়ে গোপনে একতরফাভাবে তালাক দিয়ে বাড়িতে রেখে গেছে। উনি এক সময় ভিতরবন্দ দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হিসেবে ছিলেন। পরে রামখানা রহমতিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য তার ১০ লাখ টাকার প্রয়োজন হয়। সে সময় স্ট্যাম্পের চুক্তিনামায় স্বাক্ষর করে আমার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়েছে। তার প্রমাণও আছে।

এ বিষয়ে ওই মাদ্রাসার সুপার নেছার আহম্মেদ বলেন, সব অভিযোগ তদন্ত করেন। তদন্ত করে কী করার আছে করেন। যা ব্যবস্থা নেয়ার আছে নেন।

এদিকে অভিযোগ পেয়ে তদন্তের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারজানা জাহান।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কামরুল ইসলাম বলেন, তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রাথমিকভাবে কিছু তদন্ত হয়েছে। অভিভাবকদের সব প্রমাণ দিতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, তবে এরই মধ্যে অনেক সত্যতা মিলেছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে রিপোর্ট ইউএনও মহোদয়ের কাছে জমা দিয়ে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি