এই বছর ৬০টি দল নিয়ে মাঠে গড়াবে তৃতীয় বিভাগ বাছাইপর্ব। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করবেন। টুর্নামেন্ট শুরু হবে ১০ মার্চ থেকে। এবারের বাছাইয়ে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে সিটিজেন ব্যাংক। টুর্নামেন্টটির জন্য ৩০ লাখ টাকা দিচ্ছে ব্যাংকটি। গতকাল বিসিবি প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলন করে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পরে টুর্নামেন্টটি এভাবে আলোর মুখ দেখায় ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের (সিসিডিএম) সহ-সভাপতি মাসুদুজ্জামান উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। গেল বছরগুলোতে এভাবে ঢাকঢোল পিটিয়ে তৃতীয় বিভাগের বাছাই অনুষ্ঠিত হয়নি। নাম স্বর্বস্বভাবে টুর্নামেন্ট শেষ করে হাঁফ ছেড়েছে বিসিবি। কিন্তু এবার ফারুকের বোর্ড সেখান থেকে বের হয়ে এসে ভিন্নভাবে এই টুর্নামেন্ট করছে।
গতকাল মাসুদুজ্জামান বলেছেন, ‘আমার ২৫-৩০ বছরের ক্রিকেট পাড়ার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এই টুর্নামেন্টকে সবাই একটা মাইলফলক হিসেবে দেখবেন। এই টুর্নামেন্টের জন্য বহু বছর ধরে আমরা পরিকল্পনা করেছি। কিন্তু বাস্তবায়ন করা হয়ে ওঠেনি। বিগত দিনে বিসিবিকে আমরা বহুভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম, কেন সেটি করা হয়নি সেটি নিয়ে পেছনে আর যাচ্ছি না। আমি স্বপ্ন দেখার লোক, আমি স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি, স্বপ্ন দেখতে চাই। সেই স্বপ্ন সম্পর্কে বর্তমান পরিচালনা পরিষদ ও বিসিবির সভাপতি বুঝতে পেরেছেন। সিসিডিএম যে স্বপ্ন দেখেছে সেটি এখন বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে।’
আফসোসের সুরে ঢাকার এই ক্রিকেট সংগঠক বলেন, ‘এই কোয়ালিফাইং যদি আজ থেকে ১২ বছর আগে চালু থাকত কিংবা ১৫ বছর আগে চালু থাকত, তাহলে আমাদের পাইপলাইনে কত হাজার ক্রিকেটার আমরা পেয়ে যেতাম! যদি বছরে ১ হাজার কিংবা তার বেশি প্রতিযোগী ধরা হয়, তাহলে ১২ বছরে সেটি কোথায় গিয়ে দাঁড়াত তা নিয়ে আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এত খেলোয়াড় আমাদের থাকার কথা ছিল। সেটি আমরা তৈরি করতে পারিনি। অতীতে আমরা যা করেছি, সেটিকে ক্রিকেট বলে না। তৃতীয় বিভাগ কোয়ালিফাইং আমরা করিনি, যা করেছি সেটি টেবিল ওয়ার্ক করেছি। এই বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মী থেকে শুরু করে সবাই জানেন।’ পৃষ্ঠপোষক নিয়ে সিসিডিএমের সহসভাপতি মাসুদুজ্জামন বলেন, ‘তৃতীয় বিভাগে সাধারণত আমরা পৃষ্ঠপোষক পাই না। আমাদের ঘাটতি থাকে। সিটিজেন ব্যাংক এবার এগিয়ে এসেছে, সেজন্য তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। সবাইকে এভাবে পাশে পেলে আমরা অনেক দূর বাংলাদেশের ক্রিকেট, ঢাকার ক্রিকেট ও ক্লাব ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে পারব।’
এই টুর্নামেন্টের ম্যাচ হবে ৫০ ওভারের। লাল বলের খেলা হবে সাদা পোশাকে। ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে দলগুলোকে। মোট ম্যাচ হবে ১২০টি। এরপরে প্রতি গ্রুপসেরা ১২টি দল নিয়ে হবে সুপার লিগ। সেখানে ২টি গ্রুপে মোট ৩০ ম্যাচ হবে। সুপার লিগে খেলা ২টি গ্রুপ থেকে সেরা ২টি করে মোট চারটি দল ঢাকা তৃতীয় লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে।
ভেন্যু হিসেবে রাখা হয়েছে সিটি ক্লাব, পিকেএসপি ১ ও ২, শামসুজ্জোহা স্পোর্টস কমপ্লেক্স, তেঘরিয়া স্টেডিয়াম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাউন্ড, মাস্কো-সাকিব ক্রিকেট গ্রাউন্ড। গতকালের টাইটেল স্পন্সর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি পরিচালক আকরাম খান, সিসিডিএমের সদস্যসচিব আদনান রহমান দিপন, সিটিজেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান ও কোম্পানি সেক্রেটারি ওয়াহিদ ইমাম।
Leave a Reply