দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সম্প্রতি জ্বর, সর্দি, পেট ব্যথা ও ডায়রিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ, অন্তর্বিভাগ ও বহির্বিভাগে রোগীর চাপ বেড়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আগত রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, জরুরি বিভাগে রোগীদের চিকিৎসা দিতে ব্যস্ত চিকিৎসকসহ উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসাররা (সেকমোরা)। অন্তর্বিভাগের রোগীদের ওষুধপত্র দিচ্ছেন সেবিকারা। সবচেয়ে বেশি চাপ সামলাতে হচ্ছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনের বহির্বিভাগের চিকিৎসকদের। চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার বারাইপাড়া গড়পিংলাই গ্রামের ৪৫ বছর বয়সী রোজিফা খাতুন জানান, পাতলা পায়খানার জন্য তিনি হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়ে এখন ভালো আছেন। বহির্বিভাগে টিকিট প্রদানকারী মো. আবুজার বলেন, রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় কাজের পরিমাণও বেড়ে গেছে।
আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. নূর ই আলম খুশরোজ আহমেদ আনন্দ বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সবচেয়ে বেশি রোগী আসছেন সর্দি, জ্বর, পেট ব্যথা ও ডায়রিয়া নিয়ে। তাদের মধ্যে যাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার প্রয়োজন, তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর অসুস্থদের অন্তর্বিভাগে ভর্তি করা হচ্ছে। দুই-এক দিনের মধ্যেই অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরতে পারছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান জানান, ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পার্শ্ববর্তী বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, পার্বতীপুর ও চিরিরবন্দর উপজেলার রোগীরাও চিকিৎসা নিতে আসছেন। কিন্তু এখানকার ওষুধসহ সার্বিক বিষয়ের বরাদ্দ বাড়েনি। এতে প্রায়ই ওষুধ সংকটে পড়তে হচ্ছে। ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন রোগী থাকছে ৭০ থেকে ৮০ জন। কিন্তু রোগীর খাদ্যসহ অন্যান্য বরাদ্দ রয়েছে ৫০ জনেরই। এরপরও ৫০ জনের বরাদ্দ থেকেই বাড়তি রোগীতের চিকিৎসাসেবাসহ সার্বিক বিষয়গুলো ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
Leave a Reply