ইরানের পোশাক আইন লঙ্ঘন করার দায়ে পুলিশের এনকাউন্টারে চলতি মাসের শুরুতে কোমায় যাওয়া কিশোরী আরমিতা গারাওয়ান্দের ‘ব্রেন ডেথ’ হয়েছে বলে রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। খবর রয়টার্সের। কুর্দি-ইরানি হেনগাও-এর মতো ডান গোষ্ঠীগুলোই সর্বপ্রথম আরমিতা গারাওয়ান্দের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে নিয়ে আসে। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১৬ বছর বয়সী মেয়েটির ছবি প্রকাশ করে। ছবিতে দেখা যায়, তার শরীরে একটি শ্বাসযন্ত্রের টিউব এবং মাথায় ব্যান্ডেজ করা। তবে রয়টার্স ছবিগুলো যাচাই করতে পারেনি দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ‘গারাওয়ান্দের সর্বশেষ স্বাস্থ্যের অবস্থার ফলো-আপগুলো ইঙ্গিত দেয় যে চিকিৎসা কর্মীদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তার ‘ব্রেন ডেথ’ নিশ্চিত বলে মনে হচ্ছে।’ তবে ইরানের কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এর আগে বুধবার (১১ অক্টোবর) সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছিল, আরমিতার অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে।
ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বলছে, মেয়েটির নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা ছিল। এ কারণে সে তেহরানের মেট্রো স্টেশনটিতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়েছিল। এ ঘটনার সঙ্গে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
হেনগাও (হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন) জানায়, মেট্রো স্টেশনটিতে ইরানের কথিত নীতি পুলিশের এজেন্টরা আরমিতাকে আটক করেন। তার ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় সে গুরুতর আহত হয়। মেয়েটি ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় কুর্দি অধ্যুষিত শহর কেরমানশাহের অধিবাসী, তবে সে তেহরানে থাকে।
এর আগে দেশটির পোশাক বিধি না মানায় গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর কুর্দি তরুণী মাসা আমিনিকে আটক করেছিল দেশটির নীতি পুলিশ। আটকের তিন দিন পরে ১৬ সেপ্টেম্বর, পুলিশি হেফাজতে তার মৃত্যু হয়। মাসার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরান জুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মুখে পড়ে ক্ষমতাসীন সরকার।
Leave a Reply