ভোলায় বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের সাথে আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ চলাকালে মাথায় গুলি লেগে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় দোকান বন্ধ করার সময় তার মাথায় গুলি লাগে। নিহতের ছোট ভাই এ ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। দুপুর পৌনে ২টার দিকে খলিফাপট্টি মসজিদের সামনে থেকে নিহতের স্বজনরা তার লাশ উদ্ধার করেন। নিহত জসিম উদ্দিন (৪০) ভোলা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর নবীপুর এলাকার আবু তাহেরের ছেলে। জসিম নিহত হওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা তার লাশ নিয়ে শহরে মিছিল করেছে। শিক্ষার্থীদের ও আওয়ামী লীগের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় আগুন দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ অফিস ও ২০টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে পৌর ভবন, মুক্তিযোদ্ধা অফিস, ও অর্ধশতাধিক দোকান। এতে অন্তত ৫জন গুলিবিদ্ধসহ ২০ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছে।
প্রথমে বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের ইলিশ ফোয়ারা চত্বর থেকে মিছিল নিয়ে মহাজনপট্টি সদর রোড হয়ে বাংলাস্কুল মোড়ে আসলে আওয়ামী লীগের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বাধে। আধা ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ হয়। এসময় আন্দোলনকারীরা পুরো শহর দখলে নিয়ে নেয়। আগুন ধরিয়ে দেয় জেলা আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ অফিসে। আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগ অফিস ও আশপাশে রাখা অন্তত ২০টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। ভাঙচুর করা হয়েছে জেলা প্রশাসক কার্যালয়, পৌর ভবন, মুক্তিযোদ্ধা অফিসসহ অর্ধশতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। একদল মিছিলকারী সদর থানার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় থানার সাইনবোর্ড ভাঙচুর করে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়ক, বাংলাস্কুল মোড়, সদর রোড, গাজীপুর রোড ও নতুন বাজারে হাজার হাজার মানুষ অবস্থান নিয়ে শ্লোগান দেয়। এসময় জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও পৌর ভবনের সামনে থাকা সরকারি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেন। তবে পুরো শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর উপস্থিতি দেখা যায়নি। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সাথে বিএনপি, বিজেপি ও জামায়াতসহ হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
Leave a Reply