দুই বছর আগে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে ‘আমার বাংলাদেশ’ শিরোনামে সাড়ে তিন মিনিটের একটি ভিডিও কনটেন্ট নির্মাণ করেছিলেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী যেটি সেসময় দর্শকমহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। সেই গল্পে বাংলাদেশি মেয়ে জুঁই চরিত্রে অভিনয় করা নিদ্রা দে নেহা দর্শকের কাছে বেশ পরিচিতি পান।
২০২০ সালে মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সেরা দশে ছিলেন আর সেই থেকে শুরু। এরপর কাজ করেছেন বেশ কিছু বিজ্ঞাপনে। তার আগ্রহ সিনেমাকে ঘিরে আর তাই এখন পর্যন্ত বহু নাটকে অভিনয়ের প্রস্তাব পেলেও সাড়া দেননি। আগামী ৮ জুন ওটিটি প্লাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার প্রথম ওয়েব সিনেমা ‘আন্তঃনগর’, যেটি পরিচালনা করেছেন গৌতম কৈরি।সিনেমাটি প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘আন্তঃনগর’ সিনেমাটি মূলত তিনটা কাপলের জীবনের জার্নি দেখানো হয়েছে। এরমধ্যে একটা চরিত্র আমি যার নাম পূর্ণিমা। সমাজের কিছু ধরাবাধা ট্যাবু প্রচলিত আছে, কিছু ক্রাইসিস আছে সেগুলো নিয়ে চলতে গিয়ে যেসব স্ট্রাগলের মুখোমুখি হতে হয় ঠিক সেরকমই এক গল্প নিয়ে এ সিনেমা।নেহা জানান, শুরু থেকেই তার ইচ্ছে ছিল সিনেমা করার। সে লক্ষ্যেই ধীরে ধীরে এগোচ্ছেন। নিজেকে বড় পর্দায় দেখার সুপ্ত বাসনা লালন করছেন মনে।
তিনি বলেন, ‘প্রাণের একটি বিজ্ঞাপন দিয়ে কাজ শুরু করি এরপর আরেকটা বিজ্ঞাপন করেছিলাম কিন্তু সেটি আর প্রচার হয়নি। এরপর ফারুকী ভাইয়ের ‘আমার বাংলাদেশ’ বিজ্ঞাপনটি করি এবং এই কাজটি দিয়ে সবার কাছে পরিচিতি পেতে শুরু করি। এটা আমার জন্য একটা টার্নিং পয়েন্ট বলা যেতে পারে। এই কাজটা আমার জন্য অনেক হেশুরুতে একটানা মডেলিং করেছি। দেশের সব নামী ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছি। র্যাম্পেও হেঁটেছি। একটা সময় আমার বন্ধু-বান্ধবরা বলতে লাগলো যে, ‘তোর ভিজ্যুয়ালি প্রেজেন্স ভালো, ভিজ্যুয়ালে কাজ কর।’ এরপর ট্রাই করতে শুরু করলাম, বিভিন্ন জায়গায় অডিশন দিলাম কিন্তু সব জায়গা থেকেই হতাশ হয়েছি। ঐ সময়টাতে আমি অনেকটা ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলাম। এরপরই ফারুকী ভাইয়ার কাজের প্রস্তাবটা আসে এবং আমার সবকিছুই একটু একটু করে বদলাতে শুরু করে।’-যোগ করেন নিদ্রা নেহা।ল্প করেছে তা নাহলে আমাকে আরও অনেক বেশি স্ট্রাগল করতে হত। এরপর অনেক কাজেরই প্রস্তাব পেতে শুরু করি। আমার মূল টার্গেট আসলে সিনেমা। কখনো নায়িকা হতে চান না জানিয়ে এ অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি কখনো নায়িকা হতে চাই না। নায়িকা হতে হবে বা গ্ল্যামারাস হতে হব এমন কোন ইচ্ছেই নেই আমার। আমি বিভিন্ন চরিত্র প্লে করতে চাই, ক্যারেক্টার আর্টিস্ট হবো। অভিনয় শিখবো। আমার কাছে কোনো স্ক্রিপ্ট আসলে কখনোই জিজ্ঞেস করি না এটা লিড ক্যারেক্টার কিনা বা আমার বিপরীতে কে কাজ করছেন! আমার ফোকাস শুধু স্ক্রিপ্টের দিকে আর প্রশ্ন থাকে যে, আমার চরিত্রটা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ, সেটা!’নায়িকা হতে না চাওয়া প্রসঙ্গে নেহা বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, নায়ক বা নায়িকাদের সময়টা খুব বেশিদিন থাকে না। তাদের চার্মটা খুব অল্প সময় থাকে। একটা সময় পর শেষ হয়ে যায়। তাদের ওই ফ্লেক্সিবিলিটিটা থাকে না যেটা একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রীর আজীবন থাকে। অভিনেত্রীদের সুযোগটা থাকে বেশি। এরজন্য আমার নায়িকা হওয়ার ইচ্ছা কখনোই জাগেনি।’
তিনি আরও বলেন, প্রথমদিকে কাজ নিয়ে খুব একটা সিরিয়াস ছিলাম না। কাজ আসতো করতাম, ইচ্ছে নাহলে করতাম না। কিন্তু এখন বরিশালের ভোলার মেয়ে নিদ্রা নেহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। পড়াশোনার পাশাপাশি অভিনয় করাটা একটু কঠিনই মনে হয় তার কাছে। তার ভাষ্যে, পড়াশোনার পাশাপাশি অভিনয় করা একটু কঠিনই। তারপরও দুটোকে ব্যালেন্স করে করতে হচ্ছে।সবটুকু মনোযোগ অভিনয়ের দিকেই। এটাই ধ্যান-জ্ঞান বলা চলে। এটাকে নিয়েই সামনে এগোতে চাই।
Leave a Reply