গোলাম রব্বানী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁর শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামেও এখন থাবা বসিয়েছে অনলাইন জুয়া। কোনো গোপন আস্তানা বা তাসের বোর্ডের প্রয়োজন হচ্ছে না; স্রেফ একটা স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই যে কেউ জড়িয়ে পড়ছে এই মরণনেশায়। বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণ, শিক্ষার্থী, এমনকি দিনমজুরেরাও প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হারাচ্ছে। পর্দার আড়ালে চলা এই ডিজিটাল জুয়ার কারণে নিঃস্ব হচ্ছে শতশত পরিবার, বাড়ছে পারিবারিক কলহ ও সামাজিক অপরাধ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওয়ানএক্সবেট (1xBet), মেলবেট (Melbet), মোস্টবেট (Mostbet) ও বাবু৮৮ (Babu88)-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বেটিং সাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে এই জুয়া পরিচালিত হচ্ছে। ক্রিকেট, ফুটবল ম্যাচ কিংবা ভার্চুয়াল ক্যাসিনোর ওপর বাজি ধরছে জুয়াড়িরা। বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টদের একটি চক্র এই জুয়ার টাকা আদান-প্রদানে (ডিপোজিট ও উইথড্র) ‘লোকাল এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করছে। ফলে লেনদেন হচ্ছে সহজেই।
স্থানীয় সচেতন মহল জানায়, আগে জুয়াড়িরা নির্দিষ্ট কোনো স্থানে গিয়ে তাস বা ডাব্বু খেলত, যা পুলিশ সহজেই ধরতে পারত। কিন্তু অনলাইন জুয়া সম্পূর্ণ গোপন হওয়ায় এটি ধরা কঠিন হয়ে পড়েছে। চায়ের দোকান, স্কুল-কলেজের মাঠ বা নির্জন স্থানে বসে তরুণরা দলবেঁধে মোবাইলের স্ক্রিনে মগ্ন থাকছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নওগাঁর এক ভুক্তভোগী অভিভাবক আক্ষেপ করে বলেন, “আমার ছেলে কলেজের পড়াশোনা বাদ দিয়ে সারাদিন মোবাইলে কী যেন করত। পরে জানতে পারলাম জুয়া খেলে সে এক লাখ টাকা ঋণ করে ফেলেছে। ঋণের টাকা শোধ করতে এখন ঘরের জিনিসপত্র চুরি করছে।”
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, অনলাইন জুয়ার এই সহজলভ্যতা তরুণ সমাজকে দ্রুত অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তারা প্রথমে পরিবারের টাকা সরাচ্ছে, পরে চুরি, ছিনতাই বা মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। এটি বন্ধে এখনই পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিরোধের পাশাপাশি কঠোর আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এই বিষয়ে নওগাঁর স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, অনলাইন জুয়ার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাইবার অপরাধের এই চক্রটিকে চিহ্নিত করতে কাজ করছে পুলিশ। এর সাথে জড়িত কোনো এজেন্ট বা জুয়াড়িকে ছাড় দেওয়া হবে না। পাশাপাশি সন্তানদের মোবাইল ব্যবহারের ওপর কড়া নজর রাখতে অভিভাবকদের অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
Leave a Reply